World Environment Day: World Environment Day: ভয় পাবেন, আশঙ্কা হবে, সচেতন হবেন— এই ৬ ছবি আপনাকে ভাবাবে… – 6 environment documentaries to watch on this world environment day

Share Now





এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: একটা সময় ছিল যখন দূরদর্শন ছাড়া কোনও ভালো তথ্যচিত্র দেখার সুযোগ বিশেষ মিলত না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যচিত্র দেখার সুযোগ বেড়েছে। তবে তুলনামূলক তথ্যচিত্র বা ডক্যুমেন্টারি ফিল্মের জনপ্রিয়তা কম। কিন্তু ডিজিটাল দুনিয়ার প্রভাবে বিশ্বের অসাধারণ তথ্যচিত্র দেখা সুযোগ পাচ্ছেন দর্শক ফলে চাহিদা বাড়ছে ধীরে ধীরে। প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলে তথ্যচিত্রগুলি যথেষ্ট আকর্ষণীয়।

বিভিন্ন বিষয় নিয়েই তথ্যচিত্র তৈরি হয়। কিন্তু একদল চলচ্চিত্র নির্মাতা তাঁদের তথ্যচিত্রের বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন পরিবেশকে। পরিবেশের সৌন্দর্য এবং ভয়ানক দিকগুলি উঠে এসেছে এই সমস্ত ছবিতে। মানুষকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে তার কীর্তিকলাপ। আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে রইল তেমনই কিছু অসাধারণ সিনেমার হদিশ।

আ প্লাস্টিক ওশান (২০১৬)

২০১৬ সালের তথ্যচিত্র আ প্লাস্টিক ওশান (A Plastic Ocean) উত্তেজনা যে কোনও ওয়েব থ্রিলারকে হার মানাতে পারে। মানুষের ব্যবহৃত প্লাস্টিক সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার ফলে পরিবেশের ভারসাম্যে যে ভয়ানক প্রভাব ফেলেছে তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দিয়েদিয়ে এক ঘণ্টা ৪২ মিনিটের এই ছবি। মানুষের বর্জ্য প্লাস্টিক সামুদ্রিক প্রাণীদের প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ভয়ানক কিছু ঘটে যেতে পারে। আ প্লাস্টিক ওশিয়ান দেখার পর নিজেদের অপদার্থতা দেখে কিছুক্ষণের জন্য হলেও স্তব্ধ হয়ে যাবে মানুষ।

ইন্ডিয়া 2050 (২০১৯)

সারা বিশ্বজুড়ে জলবায়ুতে পরিবর্তন হচ্ছে। পরিবর্তন হচ্ছে ভারতের জলবায়ুরও। কোথাও মেঘভাঙা বৃষ্টিতে সমস্তকিছু ভেসে যাচ্ছে কোথা আবার খরার দাপটে অতিষ্ট কৃষক আত্মহত্যা করছেন। গরমে প্রাণ অতিষ্ট। শীত কথনও বেশি কখনও কম। প্রায় সারা বছরই গরম। ছয় ঋতুর দেখা মেলে না বললেই চলে। এক ভয়ানক পরিবর্তনের মধ্যে বাস করছেন ভারবাসী। ২০৫০ সালে গিয়ে এই পরিবর্তন কোথায় দাঁড়াতে পারে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ইন্ডিয়া 2050। নিজের দেশ এবং দেশবাসীর ভবিষ্যতের হাল দেখতে দেখতে কথা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সিসপাইরেসি (২০২১)

অতিরিক্ত প্লাস্টিকের ব্যহারের ফলে জলজ প্রাণীদের বেহাল দশা, অতিরিক্ত মাছ শিকার এবং মাছ ও জলজ প্রাণীদের নিয়ে চোরা কারবারীদের রমরমার যাবতীয় কাহিনি রয়েছে ২০২১ সালের তথ্যচিত্র সিসপাইরেসি (Seaspiracy)। মানুষের অত্যাধিক লোভ এবং বেহিসাবি জীবনযাত্রার ফল ভুগছে অন্যান্য প্রাণীরা। তার মধ্যে রয়েছে জলে বসবাসকারী জীব এবং উদ্ভিদও। এভাবে চলতে থাকলে নিজের পাপের শাস্তি নিজেই পাবে মানুষ। স্পষ্ট বলা আছে ডক্যু-ফিল্মটিতে।

ওয়াইল্ড কর্ণাটকা (২০১৯)

কর্ণাটকে বন্যজীবন নিয়ে তৈরি ২০১৯ সালে তথ্যচিত্র ওয়াইল্ড কর্ণাটকা (Wild Karnataka)। বাঘ বা হাতি তো বটেই কর্ণাটকের স্বল্প পরিচিত বানর শ্রেণির প্রাণী যেমন সিংহ-লাঙ্গল ম্যাকাক্যু, ধনেশ, গিরগিটি, চিতা, ওয়াটার ডগ, পরিয়াযী পাখি, কালো প্যান্থার, উভচর প্রাণী এবং একাধিক সরীসৃপের দেখা মিলবে এই তথ্যচিত্রে। নিজের দেশের সম্পদ দেখতে দেখতে মুগ্ধ হযে যাবেন। মুক্তি পাওয়ার বছরেই সেরা অ্যাভেঞ্চারাস ফিল্ম সহ দুটি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে এই তথ্যচিত্রটি।

ব্ল্যাকফিশ (২০১৩)

আমেরিকান জীব প্রশিক্ষক ডন টেরেসা ব্রানশ’-কে ২০১০ সালে একটি বিশালাকার তিমি মাছ হত্যা করে। সেই ঘটনার পর থেকেই কুখ্যাত হযে পড়ে টিলিকাম নামের ওই বৃহত্তর খুনে তিমিটি। সেই ঘটনাকে নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্র ব্ল্যাকফিশ (Blackfish) তৈরি হযেছিল ২০১৩ সালে। ১৯৮৩ সালে ওই তিমিমাছটি ধরা পড়ে। তাকে নিয়ে শুরু হয় নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা। তিমির আক্রমণে ডনের মৃত্যু হলেও এটিকে সহজভাবে মানতে চাননি তথ্যচিত্রের নির্মাতা গ্যাব্রিয়েলা কপার্থওয়েট। তাঁর সন্দেহ তিমিটিকে নানাভাবে উত্যক্ত করা হত। সেকারণেই রেগে গিয়ে আক্রমণ চালায় সে।

স্টোরি অফ প্লাস্টিক (২০১৯)

একটা সময় পর গোটা বিশ্ব প্লাস্টিকে ঢেকে যাবে। মানুষের অসচেতনতার কারণেই তার ফুসফুস, হার্ট, লিভার দখল করবে প্লাস্টিক (The Story of Plastic)। তখন আর কেউ নিঃশ্বাস নিতে পারবে না। সমস্ত পরিবেশ বিষাক্ত হযে উঠবে। প্লাস্টিকে চাপা পড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে গোটা বিশ্ব। আর এই নিয়ে তৈরি হযে তথ্যচিত্র স্টোরি অফ প্লাস্টিক। আট থেকে আশি সকলেরই দেখা উচিত এই ছবিটি। পরিবেশ সচেতনতায় এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র।






Source link