West Bengal Assembly Election 2021: In Barrackpore Bjp Supporters Demonstrated Protest After Candidate List Announcement – West Bengal Assembly Election 2021: ব্যারাকপুর: পরিযায়ী প্রার্থীতে ক্ষোভ শিল্পাঞ্চলে | Eisamay

Share Now





হাইলাইটস

  • প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন জগদ্দল বিধানসভার একদল বিজেপি কর্মী।
  • নদিয়ার শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্যকে জগদ্দলের প্রার্থী করায় তাঁরা ক্ষোভ দেখান।
  • যা সামাল দিতে মাঠে নামতে হয় বিজেপির জেলা নেতৃত্বকে।

এই সময়, ব্যারাকপুর: ফের আর একদফা প্রার্থী তালিকা বৃহস্পতিবার প্রকাশ করল বিজেপি। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে ১২টি বিধানসভার মধ্যে ৬টি আসনেই জনই তৃণমূল ও কংগ্রেস থেকে আসা নেতা বা বিধায়করা প্রার্থী হওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে শিল্পাঞ্চলের পুরোনো বিজেপি কর্মীদের মধ্যে। কোথাও চাপা ক্ষোভ, আবার কোথাও তা প্রকাশও পেয়েছে। যা সামাল দিতে মাঠে নামতে হয় বিজেপির জেলা নেতৃত্বকে।

এ দিন প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন জগদ্দল বিধানসভার একদল বিজেপি কর্মী। সদ্য তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নদিয়ার শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্যকে জগদ্দলের প্রার্থী করায় তাঁরা ক্ষোভ দেখান। শ্যামনগর বাসুদেবপুর মোড়ে বিজেপির কার্যালয় থেকে সমস্ত ফ্লেক্স, ব্যানার ছিঁড়ে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উপর ফেলে তাতে আগুন ধরিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। অরুণ ব্রহ্ম ছাড়া তাঁরা কাউকেই প্রার্থী হিসেবে মানবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। তাঁদের অভিযোগ, অরিন্দম একজন খুনের আসামি। প্রথমে কংগ্রেস, তার পর তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা অরিন্দমকে নিয়ে প্রবল ক্ষোভ কর্মীদের। প্রায় এক ঘণ্টা পর কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ মুক্ত করে পুলিশ।

অরুণ ব্রহ্ম ২০১৩ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৬ সালে তিনি জগদ্দল থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে ৩০ হাজারের উপর ভোট পান। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তার পরও তাঁকে প্রার্থী না-করা চক্রান্ত। ক্ষোভ তৈরি হয়েছে নোয়াপাড়া, খড়দহ, পানিহাটি এবং বরানগরের পুরোনো বিজেপি কর্মীদের মধ্যেও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পানিহাটির এক বিজেপি কর্মী বলেন, ‘আমরা এতদিন খেটেখুটে দলটাকে একটা জায়গায় দাঁড় করালাম। আর প্রার্থী হবে অন্য কেউ! এটা মেনে নেওয়া যায় না।’ নোয়াপাড়ার এক বিজেপি কর্মী বলেন, ‘তৃণমূলে থাকাকালীন যাঁকে নিয়ে মানুষের ক্ষোভ ছিল সেই তাঁকেই যদি প্রার্থী করা হয় তা হলে আসনটি হাতে ধরে তৃণমূলের কাছে তুলে দেওয়া ছাড়া এটাকে আর কিছু বলা যায় না।’ আবার খড়দহের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা বলেন, ‘বিজেপিতে কি যোগ্য নেতার অভাব! কেউ একজন দল বদল করে চলে এল আর তাকে প্রার্থী করা হল এটা ক্ষণিকের চমকদারি ছাড়া আর কিছু নয়। দলীয় নেতৃত্বের মাথায় রাখা উচিত এই করেই তৃণমূল দলটা ভুগছে।’

ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের যে ১২টি কেন্দ্রের ৬টি আসনে তৃণমূল ও কংগ্রেস থেকে আসা নেতাদেরই প্রার্থী করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বীজপুরে মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়, জগদ্দলে অরিন্দম ভট্টাচার্য, বাবা অর্জুন সিংয়ের হাত ধরে ভাটপাড়ায় পবন সিং, নোয়াপাড়ায় সুনীল সিং, খড়দহে শীলভদ্র দত্ত। এঁরা সকলেই তৃণমূল থেকে এসেছেন। আবার পানিহাটিতে কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়া সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে বিজেপি।

কোভিড নিয়ে চিন্তায় কমিশন, শুনছে কে?

ব্যারাকপুর থেকে বিজেপির প্রার্থী হওয়া চন্দ্রমণি শুক্লা সক্রিয় রাজনীতিতে না থাকলেও, তাঁর ছেলে মণীশ শুক্লা তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। পরে, অবশ্য মণীশও বিজেপিতে যোগ দেন। উত্তর দমদমের প্রার্থী অর্চনা মজুমদার বর্তমানে থাকেন সল্টলেকে। ফলে, তাঁকে নিয়েও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে দলের কর্মীদের একাংশের মধ্যে। অন্যদিকে, বরানগরে অভিনেত্রী পার্নো মিত্রও বহিরাগত। শুধুমাত্র ভূমিপুত্র এবং পুরোনো বিজেপি কর্মী বলতে কামারহাটি থেকে রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নৈহাটি থেকে ফাল্গুনী পাত্রকে প্রার্থী করেছে বিজেপি।

যদিও, বিজেপির রাজ্য সম্পাদিকা তথা নৈহাটির তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনী পাত্র বলেন, ‘পুরোনো-নতুন মিশিয়েই বিজেপি পরিবার। আমার বিশ্বাস, বিজেপি পরিবারের উপর বাংলার মানুষ ভরসা রাখবেন।’

টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের YouTube পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।






Source link