Mostofa Sarwar Farooki: লজ্জায় কখনও কবিতা ছাপতে দিতে পারিনি: অকপট Farooki – bangladesh’s ace filmmaker mostofa sarwar farooki talks about his upcomig webseries

Share Now





অন্য সময়: কাব্যিক ভাষায় আপনার ছবি কথা বলে। ওটিটি সিরিজের ক্ষেত্রে কীভাবে নিজের সিগনেচার রাখার চেষ্টা করেছেন ?

ফারুকি:
আপনি যদি আমার কাজগুলো দেখেন তাহলে দেখবেন যে, একেক ছবিতে আমি একেক ভাবে গল্প বলেছি। টেলিভিশন ছবিতে একরকম, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার’-এ এক রকম, ‘পিঁপড়াবিদ্যা’য় আরেকরকম, ‘ডুব’-এ আরেকরকম। ‘শনিবার বিকেল’ তো একেবারেই অন্য রকম। এই ছবিগুলোর ইউনিভার্স আলাদা, কারণ তার চরিত্রগুলো আলাদা। আমি মনে করি আমার ছবির টেম্পারামেন্ট এবং ভিসুয়াল স্টাইল নির্ধারণ করে দেয়ে ঐ ছবির চরিত্র এবং তার মনের অবস্থা। কিন্তু এই বিচিত্র স্টাইল নিয়েও, আপনি যেমন বললেন, আমার ছবিগুলো হয়তো ভিসুয়ালি একটা সিগনেচার রাখে। রাখলে আমি কৃতজ্ঞ। এই সিরিজের ক্ষেত্রেও একদমই ভিন্ন একটা জগত আমাকে বানাতে হয়েছে কারণ এর কেন্দ্রীয় চরিত্র সাবিলা একজন ভিন্ন মানুষ, ভিন্ন তার মনোজগৎ, ভিন্ন তার চ্যালেঞ্জ। কিন্তু যেহেতু এটা এপিসোডে বলা গল্প, সেহেতু এর স্ক্রিপ্টিংয়ে আমাকে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে সঙ্গত কারণেই। গল্পের গতি এবং ছন্দ কোথায় বাড়বে, কোথায় কোথায় আমাকে উৎকন্ঠায় রাখতে হবে এইসব চিন্তা করতে হয়েছে। কিন্তু অবশ্যই ফিল্ম মেকিংয়ের বেসিককে ভুলে গিয়ে নয়।

অন্য সময়: আপনার ছবির কাব্যময়তা দেখে একটা প্রশ্ন, আপনি কি কখনও কবিতা লিখেছেন?

ফারুকি: হাহাহা। এখনও লিখি গোপনে। তবে ইদানীং ফেসবুকে দুয়েকটা প্রকাশ করেছি। আসলে আমি তো চিরকাল কবিতাই লিখতে চেয়েছি। কিন্তু লজ্জায় কখনও ছাপতে দিতে পারিনি। পরে ভাবলাম কবিতাতো শুধু লেখার বস্তু না। কবিতা আঁকা যায় যেটাকে লোকে পেইন্টিং বলে। কবিতা যন্ত্র দিয়ে বাজানো যায়, ক্যামেরা দিয়ে তোলা যায়, কবিতা যাপন করা যায়। কবিতার জন্ম যে কোনও মুহুর্তে হতে পারে। প্রেমিক-প্রেমিকা ফোনে কথা বলার সময়ও জন্ম দিয়ে দিতে পারে এক নতুন রিয়ালিটির, যথা নতুন কবিতার। তবে কবিতা আমি খুব পড়ি।

অন্য সময়: তাহলে কবিতা নিয়েই পরের প্রশ্ন। আপনার নির্মলেন্দু গুণ পছন্দ নাকি শামসুর রহমান অথবা শক্তি চট্টপাধ্যায়? নাকি জীবনানন্দ?

ফারুকি: ফুলের বনে যার কাছে যাই, তারেই লাগে ভালো। এই প্রশ্ন শুনে আমার এই লাইনটার কথাই মনে পড়লো। এই চার কবির চার ভিন্ন রকমের সৌরভ আছে। আবার একই কবির ভিন্ন ভিন্ন সৌরভ আছে, ভিন্ন ভিন্ন কবিতায়। ফলে তুলনা করে বলা একটু মুশকিল।

অন্য সময়: আপনার ছবি যেমন কবিতা, তেমনই ছবির ফ্রেমও পেন্টিং-এর মতো। শাহাবুদ্দিন-এর পেন্টিং কেমন লাগে আপনার? আপনার প্রিয় ছবি আঁকিয়ে কে এবং কেন?

ফারুকি: শাহাবু্দ্দিনের গতি আমার ভীষণ ভালো লাগে। তবে আমাদের দেশের শিল্পীদের মধ্যে আমার আরও অনেকের কাজই ভালো লাগে। মনিরুল ইসলাম তাঁদের মধ্যে অন্যতম। উনি আসলে কবিতা আঁকেন। আমি তাঁর অসম্ভব অনুরাগী।

অন্য সময়: যে ছবির কাজ বাকি রয়ে গিয়েছে সেটার কী হবে ? বিদেশি টেকনিশিয়ান নিয়ে বিদেশে শুটিং চলছিল জেনেছিলাম। ছবিও দেখেছিলাম।

ফারুকি:
‘নো ল্যান্ডস ম্যান’ ছবিটা পোস্ট প্রোডাকশনে আছে। আমরা দ্রুত চেন্নাই যাবো এ আর রহমানের সঙ্গে ফাইনাল মিউজিক সেশনের জন্য। তারপর একটা ভালো সময় দেখে ছবিটা মুক্তি দেব।






Source link