mango in india: আম দরবারে প্রবেশ নেই পৌনে তিন লাখি আমের – world most expensive miyazaki mango from japan is being sold for three lakh rupess

Share Now





হাইলাইটস

  • আম আদমি বা আম দরবার বা দেওয়ান-ই-আম? তখন সেই ‘রাজামশাই’ সটান নেমে আসেন প্রজাবর্গের মধ্যে।
  • আর মিলেমিশে একাকার হয়ে যান। তখন তিনি আর ‘আম’ থাকেন না, শ্রেণিবিভাগ ভুলে আম আদমিদের সঙ্গে গিয়ে তিনি তখন ‘খাস’ হয়ে ওঠেন।
  • এই তো, ‘খাস’ বলতেই আবার রংবেরঙা ‘গোলাপখাস’ ভেবে বসলেন। মোট্টেই না। এ ‘খাস’ মানে সে ‘খাস’ নয়, এই ‘খাস’ হল ‘বিশেষ’ কিছু।

এই সময়:আম বললেই মনে পড়ে ফলের রাজার কথা। কিন্তু যদি বলি আম আদমি বা আম দরবার বা দেওয়ান-ই-আম? তখন সেই ‘রাজামশাই’ সটান নেমে আসেন প্রজাবর্গের মধ্যে। আর মিলেমিশে একাকার হয়ে যান। তখন তিনি আর ‘আম’ থাকেন না, শ্রেণিবিভাগ ভুলে আম আদমিদের সঙ্গে গিয়ে তিনি তখন ‘খাস’ হয়ে ওঠেন।

এই তো, ‘খাস’ বলতেই আবার রংবেরঙা ‘গোলাপখাস’ ভেবে বসলেন। মোট্টেই না। এ ‘খাস’ মানে সে ‘খাস’ নয়, এই ‘খাস’ হল ‘বিশেষ’ কিছু। তা এই আমের সঙ্গে খাসের একটা বেশ অম্লমধুর সম্পর্ক রয়েছে। ঠিক যেমন মিয়াজ়াকিরও রয়েছে – তিনি জাতে আম হলেও, গোত্রে খাস। আর তিনি এতটাই বিশেষ যে ‘আম আদমি’ তাঁকে ছোঁয়ার কথা ভাবলেও ভিরমি খায়। কারণ এই জাপানি আম মাত্র পৌনে তিন লক্ষ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আর ভারতে তাকে পাহারা দেওয়ার জন্য ছ’টি কুকুর ও চার জন সশস্ত্র রক্ষী রাখা হয়েছে!

তা শুনবেন নাকি এ হেন আমের খাস কাহিনি?

বলেই ফেলি তবে…!

বছর কয়েক আগে ট্রেনে চেন্নাই যাচ্ছিলেন জবলপুরের পরিহার দম্পতি। তাঁরা অর্কিড করেন শুনে ট্রেনে এক ভদ্রলোক তাঁদের আম গাছের দু’টি চারা দেন। সঙ্গে একটা ফুটনোট, ‘নিজের সন্তানের মতো যত্ন করবেন এই দু’টি চারাকে।’ সঙ্কল্প ও রানি পরিহার আর কথা বাড়াননি, বাগান প্রিয় এই যুগল তা নিয়ে কিছু দিন পর বাড়ি ফেরেন। চারা গাছ নিজের মতো বাড়তে থাকে তাঁদের বাগানে, আদর-যত্নে অবশ্য কোনও ত্রুটি রাখেননি তাঁরা। বছর দু’য়েকের মধ্যেই তাতে ফল ধরে। এ বার তাঁদের অবাক হওয়ার পালা। কস্মিনকালেও এ রকম আম তাঁরা দেখেননি – বেগুনি রঙের আম! সেই থেকেই এই আম ‘খাস।’ সঙ্কল্প বলেন, ‘এই আমের ঠিকুজি কুষ্ঠী আমার জানা ছিল না। তাই আমার মায়ের নামে এর নামকরণ করি দামিনী! সে তো হল। কিন্তু রং কেন বেগুনি সে কৌতূহল তো যায় না। ফলে বিশেষজ্ঞদের জিজ্ঞেস করি, ইন্টারনেটে সার্চ করি…!’ তাতেই জানা যায় সবটা।

সাবধান, আম খাওয়ার পর ভুলেও খাবেন না এই ৫ খাবার!
এই আমের ফলন হয় জাপানের মিয়াজ়াকিতে। সেই থেকেই এর নামকরণ ‘মিয়াজ়াকি।’ সূর্যোদয়ের দেশে একে আবার আদর করে ‘এগস অফ দ্য সান’ বলেও ডাকা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে লক্ষ লক্ষ টাকায় বিকোয় এই আম। তাই এর কদরই আলাদা। তা যে কথা বলছিলাম, এমন খাস আমের কদর না করলে চলে? পরিহার দম্পতি যখন বুঝলেন এই আমের মহিমা, তখন থেকেই তাঁরা গাছগুলি ও আমগুলিকে বাঁচাতে তৎপর হয়ে উঠলেন।

সঙ্কল্প বললেন, ‘গত বছর তো এত কিছু জানতাম না। তাই ওই অন্য রকম রং দেখেই কিছু লোক সেই আম চুরি করে নেয়। এ বার আর অসতর্ক হইনি।’ এই মহামূল্যবান ‘রত্ন’কে পাহারা দিতে রেখেছেন ৬টি শিকারি কুকুর ও ৪ জন সশস্ত্র রক্ষীকে। তাঁদের কাজ দু’টো গাছ ও ৭টি আম ২৪ ঘণ্টা ধরে পাহারা দেওয়া! সঙ্কল্পের কথায়, ‘শুধু দামের জন্য নয়, এই আম বিরলতম, তাই এটা আমরা সংরক্ষণ করতে চাই।’ রানি বললেন, ‘এক ব্যবসায়ী একটা আমের জন্য ২১ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমরা বিক্রি করিনি।’ জানালেন, মুম্বইয়ের এক গয়না ব্যবসায়ী বলেছিলেন, যত টাকা লাগে তিনি দিতে রাজি, কিন্তু আমগুলো তাঁর চাই-ই, কিন্তু রানি না বলে দেন। পরিহার দম্পতির কথায়, ‘আমরা এই ফল থেকে আরও চারা তৈরি করব। বিক্রি করে বড়লোক হওয়ার লোভ আমাদের নেই।’ দেশভর থেকে আসছে ফোন, ‘আম চাই!’

মিয়াজ়াকি নিয়ে হইচই পড়ে যাওয়ায় তা দেখতে এসেছিলেন মধ্যপ্রদেশের কৃষি দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা আর এস কাটারা। বলেছেন, ‘আমি গিয়ে দেখে এসেছি, দেশে এটার ফলন প্রায় নেই। এত দামী, কারণ এটি অতি বিরল। দেখতে অন্যরকম, স্বাদে অপূর্ব, খুব মিষ্টিও। বিদেশে মানুষ এই আম উপহার হিসেবে দেন।’ কেউ কেউ অবশ্য আমগুলো হাইব্রিড কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

Mango and watermelon: ফ্রিজে রাখেন আম-তরমুজ? বারণ করছে বিজ্ঞানই…জানুন
তবে ওই যে কথায় আছে, ‘নেবার্স এনভি, ওনার্স প্রাইড’ অর্থাৎ যাঁর কাছে আছে তাঁর গর্ব, বাকি সবার চোখ টাটায়, মিয়াজ়াকি এক কথায় তাই। তা এ বারে আপনারাই বিচার করুন, একে আম বলবেন না খাস! গুলিয়ে গেল তো!!






Source link