Kolkata Coronavirus Update: সাবধান! অজান্তে শরীরে কমছে অক্সিজেন – Silent Hypoxia Can Be The New Threat For Those Who Recover From Covid 19 | Eisamay

Share Now





হাইলাইটস

  • সাইলেন্ট বা হ্যাপি হাইপক্সিয়া ব্যাপারটা ঠিক কী?
  • ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ পার্থসারথি ভট্টাচার্য জানাচ্ছেন, নভেল করোনাভাইরাস যে প্রদাহ সৃষ্টি করে ফুসফুসে, তার জেরে ফুসফুসের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠগুলিতে (অ্যালভিওলাই) রক্ত চলাচল বিঘ্নিত হয়।
  • তার জেরেই ব্যাহত হয় অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস দু’টির আদান-প্রদান।

এই সময়: করোনা ধরা পড়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু দিন দুয়েকের মাথায় দিব্যি সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরে যান তিনি। দুর্বলতা ছাড়া আর বিশেষ সমস্যা ছিল না। কিন্তু কখন যে শরীরে কমতে শুরু করেছে অক্সিজেনের মাত্রা, তা কেউ বোঝেনি। বস্তুত, রোগী নিজেও বোঝেননি। যখন বোঝা গেল শ্বাসকষ্টের জেরে, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। ফের হাসপাতালে ভর্তি করার পর বুধবার দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান কলকাতা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্সের ইনস্পেক্টর দেবজ্যোতি কোনার।

চিকিৎসকরা মনে করছেন, নির্ঘাত হ্যাপি বা সাইলেন্ট হাইপক্সিয়া হয়েছিল ওই পুলিশ অফিসারের। ফুসফুসের অন্দরমহলে প্রদাহ শুরু হয়ে গেলেও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ এতে দেখা যায় না। ফলে বোঝাও যায় না, ফুসফুস ভিতরে ভিতরে অকেজো হয়ে পড়ছে চুপিসারে। অনেক দেরিতে শ্বাসকষ্ট শুরুর পর যখন বোঝা যায় ব্যাপারটা, তখন দেখা যায় ৮৫% বা তারও নীচে নেমে গিয়েছে অক্সিজেন স্যাচুরেশন। বিশেষজ্ঞরা বলছে, ব্যাপক হারে না-হলেও, বাড়িতে থাকা কোভিড রোগীদের মধ্যে এমন নজির বিরল নয়। অথচ নিয়ম করে দিনে চার বার পালস অক্সিমিটার দিয়ে স্যাচুরেশন মেপে নিলে, আগাম চিকিৎসায় এড়ানো যায় বিপদ। সাইলেন্ট বা হ্যাপি হাইপক্সিয়া ব্যাপারটা ঠিক কী?

রবিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে চাঁদনি, প্রিন্সেপ ঘাট সহ শহরের একাধিক বড় বাজার
ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ পার্থসারথি ভট্টাচার্য জানাচ্ছেন, নভেল করোনাভাইরাস যে প্রদাহ সৃষ্টি করে ফুসফুসে, তার জেরে ফুসফুসের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠগুলিতে (অ্যালভিওলাই) রক্ত চলাচল বিঘ্নিত হয়। তার জেরেই ব্যাহত হয় অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস দু’টির আদান-প্রদান। এর ফলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হয় ঠিকই, কিন্তু সেই ঘাটতি এত ধীরে বাড়ে যে তা ঠাহর করে উঠতে পারে না মস্তিষ্ক। ফলে শ্বাসকষ্টজনিত কোনও সমস্যাও হয় না। কিন্তু নিয়মিত স্যাচুরেশন মাপলে, বিশেষত ‘সিক্স মিনিট ওয়াক’ কিংবা ‘টু চেয়ার টেস্ট’ করলে সহজেই ধরা পড়ে যায় গণ্ডগোলটা। তখন হাতে সময় নিয়ে অক্সিজেন থেরাপি বা হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ থাকে।

সেনা হাসপাতালে সাধারণের কোভিড চিকিৎসা হতে পারে
বেলেঘাটা আইডি-র উপাধ্যক্ষ আশিস মান্না বলেন, ‘অক্সিজেনের ঘাটতির সঙ্গে সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মৃদু বিষক্রিয়াও শুরু হয় শরীরে। তাই প্রথম প্রথম এই বিষক্রিয়ার জেরেই একটা নেশার মতো ভালো লাগার অনুভূতি হয়। তাই একে হ্যাপি হাইপক্সিয়া বলে।’ ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ সৌরেন পাঁজা ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরিন্দম বিশ্বাস জানান, কোভিডের জেরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে যাঁদের প্রাণসংশয় হয় বা মৃত্যু ঘটে, তার মধ্যে ৯০-৯৫% রোগীরই সমস্যাটা হয় ফুসফুসে। আর তাঁদের মধ্যে ৫-১০% ক্ষেত্রে দেখা যায় হ্যাপি হাইপক্সিয়া।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ দোলুইয়ের অভিজ্ঞতা, ‘স্যাচুরেশন ৯৫-৯৯% থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু স্যাচুরেশন কমতে কমতে ৯০% হয়ে গেলেও হ্যাপি হাইপোক্সিয়ার রোগীরা কোনও কষ্টই টের পান না। শ্বাসকষ্ট শুরু হয় যখন, ততক্ষণে হয়তো স্যাচুরেশন ৮০-৮৫% হয়ে গিয়েছে! কিছু ক্ষেত্রে ৭০% হতেও দেখা যায়। অনেক সময়ে তখন চিকিৎসকেরও হাতের বাইরে চলে যায় পরিস্থিতি।’ তাঁর পরামর্শ, বাড়িতে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে যদি স্যাচুরেশন খেয়াল রাখা যায়, তখন শ্বাসকষ্ট থাক বা না-থাক, স্যাচুরেশন কমে যাওয়াটা অগোচরে হয় না। তখনই চিকিৎসক স্টেরয়েড দিয়ে দিলে বিপদ এড়ানো সম্ভব।

টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের YouTube পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।






Source link