delhi news: চাপের মুখে ভাষা-ফতোয়া তুলে নিল দিল্লির হাসপাতাল – delhi hospital withdraws the language imposition on nurse and doctors amid pressure

Share Now





হাইলাইটস

  • ভাষা-বিতর্ক এ বার খাস রাজধানীতে। ফের ইংরেজি-হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ।
  • রীতিমতো ফতোয়া- মাতৃভাষায় নয়, কথা বলতে হবে হিন্দি কিংবা ইংরেজি ভাষায়।
  • শনিবার এই মর্মেই মালয়ালম-ভাষী নার্সদের সার্কুলার দিয়েছিলেন দিল্লির গোবিন্দ বল্লভ পন্থ ইনস্টিউট ও হাসপাতালের নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট।

নয়াদিল্লি: ভাষা-বিতর্ক এ বার খাস রাজধানীতে। ফের ইংরেজি-হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। রীতিমতো ফতোয়া- মাতৃভাষায় নয়, কথা বলতে হবে হিন্দি কিংবা ইংরেজি ভাষায়। শনিবার এই মর্মেই মালয়ালম-ভাষী নার্সদের সার্কুলার দিয়েছিলেন দিল্লির গোবিন্দ বল্লভ পন্থ ইনস্টিউট ও হাসপাতালের নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই হইচই পড়ে যায়। চাপের মুখে ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই অবশ্য ওই সার্কুলার প্রত্যাহার করে নিয়ে হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট জানান, দিল্লির সরকার এমনকী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অন্ধকারে রেখেই ৫ জুন ওই বিতর্কিত নির্দেশিকাটি জারি করা হয়েছিল।

নার্সরা যদিও হাসপাতালের এই দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের কথায়, কর্তৃপক্ষকে না-জানিয়ে নার্সিং সুপার এই সার্কুলার দিতেই পারেন না। ওই সার্কুলার তড়িঘড়ি তুলে নেওয়া হলেও নার্সিং সুপারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে নার্সিং ইউনিয়ন। সরাসরি দিল্লি সরকারের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তাঁরা।

সূত্রের খবর, ওই হাসপাতালের প্রায় ৪০০ নার্সের মধ্যে সিংহভাগই কেরালার। যাঁদের মাতৃভাষা মালয়ালম। শনিবার দেওয়া সার্কুলারে নার্সিং সুপার জানিয়েছিলেন, তাঁর কাছে অভিযোগ এসেছে যে হাসপাতালে এই নার্সরা লাগাতার মালয়ালম বলে চলায় রোগী ও অন্য ভাষার কর্মীদের বেশ অসুবিধা হচ্ছে। তাই নিদান, হাসপাতালে কথা বলতে হলে সময় হিন্দি কিংবা ইংরেজিতেই বলতে হবে। এমনকী, নির্দেশ না-মানলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি ছিল সার্কুলারে।

কোভ্যাক্সিনের থেকে কোভিশিল্ডের অ্যান্টিবডি বেশি! নয়া গবেষণায় চাঞ্চল্য
মালয়ালমভাষী নার্সরা কিন্তু এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, নিজেদের মধ্যে মালয়ালম ভাষা ব্যবহারের চল থাকলেও রোগীদের সঙ্গে তাঁরা হিন্দিতেই কথা বলেন। নিজেদের মধ্যেও কেন মাতৃভাষায় কথা বলা যাবে না, প্রশ্ন উঠেছে। দিল্লি অ্যাকশন কমিটি অফ মালয়ালি নার্সেস সংগঠনের এক সদস্যের কথায়, ‘খাস রাজধানীর বুকেও এমন ফতোয়া দেখে আমরা সত্যিই হতবাক। এ তো ভাষাগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ! এই সার্কুলার দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষমা চাইতেই হবে। এই সার্কুলার গোটা কেরালা ও বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সব মালয়ালির অপমান।’

মাতৃভাষায় কথা বলা যে নাগরিকের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে এবং এর উপর কোনও নির্দেশিকা চাপিয়ে দেওয়া যায় না, রবিবার তা মেনে নিয়েছেন হাসপাতালের এমডি অনিল আগরওয়ালও। এই ঘটনার জন্য দায়ীকে চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, দিল্লি সরকারের তরফে শো-কজ় নোটিস দেওয়া হয়েছে হাসপাতালকে।

টিকায় পাঁচ শতাংশই GST, সুপারিশ
বিতর্কিত ওই সার্কুলার নিয়ে সরগরম রাজধানীর রাজনীতিও। এ ভাবে মাতৃভাষা চর্চার অধিকার ছিনিয়ে হিন্দি-ইংরেজি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার তীব্র নিন্দা করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইট করেন, ‘এই ভাষাবৈষম্য বন্ধ হোক। মালয়ালম আর পাঁচটার মতোই খাঁটি ভারতীয় ভাষা।’ কংগ্রেসেরই নেতা কে সি বেণুগোপাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনের হস্তক্ষেপ দাবি করে চিঠি লেখেন। ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা ভয়াবহ এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকারে আঘাত বলে তোপ দাগেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরও।






Source link