Delhi clashes: জামিন বহাল নাতাশাদের, রায় খতিয়ে দেখবে শীর্ষ আদালত – delhi high court grants bail to the students accused in delhi clashes

Share Now





হাইলাইটস

  • দিল্লি সংঘর্ষ ষড়যন্ত্র মামলায় ইউপিএ আইনকে যে ভাবে ব্যাখ্যা করে তিন সমাজকর্মীর জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত পরবর্তীকালে দেশজুড়ে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে,।
  • গত বছর ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লির সংঘর্ষে প্রাণ যায় অন্তত ৫৩ জনের।
  • আহত হন দু’শোরও বেশি মানুষ।

নয়াদিল্লি: দিল্লি সংঘর্ষ ষড়যন্ত্র মামলায় ইউপিএ আইনকে যে ভাবে ব্যাখ্যা করে তিন সমাজকর্মীর জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত পরবর্তীকালে দেশজুড়ে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, এমনটাই যুক্তি শীর্ষ আদালতের। আর তাই দেবাঙ্গনা কলিতা, নাতাশা নারওয়াল এবং আসিফ ইকবাল তানহার জামিনে স্থগিতাদেশ না দিলেও সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বক্তব্য, এই মামলার সিদ্ধান্তকে ভবিষ্যতের কোনও মামলায় দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। সেই সঙ্গে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি হেমন্ত গুপ্তা এবং ভি রামাসুব্রহ্মণ্যম জানান, দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের আইনি দিক খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। আগামী মাসে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লির সংঘর্ষে প্রাণ যায় অন্তত ৫৩ জনের। আহত হন দু’শোরও বেশি মানুষ। দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে যে বিক্ষোভ চলছিল তা থেকেই উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক অশান্তির সূত্রপাত বলে দাবি দিল্লি পুলিশের। আর এই অশান্তি ছড়ানোর পিছনে জেএনইউ-র পিএইচডির পড়ুয়া নারওয়াল এবং কলিতা আর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া কলেজের বিএ-র পড়ুয়া তানহা ‘মূলচক্রী’ বলে অভিযোগ তোলে পুলিশ। গত বছর মে মাসে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁদের। এই তিন জন পড়ুয়ার বিরুদ্ধেই সন্ত্রাস দমন আইনে (ইউএপিএ) মামলা হয়। দিল্লি হাইকোর্ট অবশ্য প্রশ্ন তোলে ইউএপিএ আইন প্রয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, ‘ইউএপিএ আইনের ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ’ শব্দবন্ধটি যে কোনও অপরাধমূলক কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় না। বিরোধী স্বর দমন করতে গিয়ে রাষ্ট্র প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মধ্যে পার্থক্যকে লঘু করে দিয়েছে। এই ধরনের মানসিকতা সমর্থন করা হলে তা গণতন্ত্রের পক্ষে খুব দুঃখজনক হবে।’ তিন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করা যায়নি এই যুক্তিতে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তাঁরা।

কিন্তু দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। পুলিশের যুক্তি ছিল, তিন সমাজকর্মীর জামিনের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেওয়া হোক, না হলে ভবিষ্যতে ইউএপিএ মামলায় অভিযুক্ত অনেকেই এটিকে দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। শুক্রবার শুনানি চলাকালীন দিল্লি পুলিশের বক্তব্য ছিল, ‘দিল্লির সংঘর্ষে ৫৩ জন নিহত হয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই পুলিশ অফিসার, ৭০০ জন আহত হয়েছিলেন। হাইকোর্ট জানিয়েছে, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রিত ছিল, তাই ইউএপিএ প্রয়োগ করা যাবে না। এ ভাবে কোনও অপরাধের গুরুত্ব লঘু করা যায়? দিল্লি হাইকোর্ট ইউএপিএ-কে অনেক লঘু করে দিয়েছে।’

৫১ দিন পর খুলল দোকান! ৭২ কোটি টাকার রেকর্ড মদ বিক্রি!!
সুপ্রিম কোর্ট এদিন বলে, ‘কোনও জামিনের শুনানিতে সব আইন নিয়ে আলোচনা হবে, সেটা খুবই অবাক করার মতো ঘটনা। আমরা মানছি, অনেক প্রশ্ন এক্ষেত্রে উঠতেই পারে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং সারা দেশজুড়ে এর প্রভাব পড়তে পারে। আমরা এ ব্যাপারে নোটিস জারি করে অপর পক্ষের বক্তব্যও শুনতে চাইব। তবে, ওঁদের (৩ সমাজকর্মী) উপর এর কোনও প্রভাব পড়বে না। ওঁরা হাইকোর্টের নির্দেশে জামিনে মুক্তই থাকবেন।’ দিল্লি পুলিশে তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং সমাজকর্মীদের তরফে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবালও শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।

সপ্তাহে ৪দিন কাজ, ৩দিন ছুটি! নিয়ম আনতে পারে মোদী সরকার
এদিকে, বৃহস্পতিবার তিহার জেল থেকে মুক্তির পর দেবাঙ্গনা, নাতাশা এবং আসিফ- তিন জনই জানিয়েছেন, সিএএ, এনআরসি এবং এনপিআরের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন তাঁরা। নাতাশার দাবি, জেলে থাকাকালীনও তাঁরা বিপুল সমর্থন পেয়েছেন। দেবাঙ্গনার কথায়, ‘দিল্লি হাইকোর্ট আমাদের বিশ্বাসের মর্যাদা রেখেছে, তার জন্য ধন্যবাদ। এ ধরনের কোনও প্রতিবাদ সন্ত্রাস নয়। এগুলি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ।’






Source link