covid19 west bengal: নিজে নিজেই চলছে সোয়াব সংগ্রহ – patients are collecting swab for covid test by their own stunning picture in murshidabad jangipur

Share Now





হাইলাইটস

  • কোনও স্বাস্থ্যকর্মী বা টেকনিশিয়ান নয়, করোনার জন্য সোয়াব সংগ্রহ করতে হচ্ছে নিজেদেরই।
  • রোগীদের তালিকা ধরে নাম ডাকছেন রাহুল তারপর করোনা পরীক্ষা করতে আসা রোগীরা একে একে সেই কিট গলার ভেতর ঢুকিয়ে লালা সংগ্রহ করে নিজেরাই নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দিচ্ছেন।
  • করোনার RT-PCR পরীক্ষার জন্য ন্যাসো-ফ্যারিঞ্জিয়াল সোয়াব লাগে। অর্থাৎ নাকের ভিতর (ন্যাসো) এবং গলার (ফ্যারিঙ্গস) মধ্যে থেকে সোয়াব নমুনা সংগ্রহ করতে হয়।

এই সময়: কোনও স্বাস্থ্যকর্মী বা টেকনিশিয়ান নয়, করোনার জন্য সোয়াব (Covid19 West Bengal) সংগ্রহ করতে হচ্ছে নিজেদেরই। প্রত্যন্ত গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নয়, শনিবার এই ছবি ধরা পড়েছে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। জঙ্গিপুরে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরসভা এলাকা ও গ্রাম থেকে এদিন অনেক মানুষ ভিড় করেন মহকুমা হাসপাতালে। হাসপাতালে পাশে টিনের ছাউনির নীচে ৫০ থেকে ৬০ জন লম্বা লাইনে, রোদের তাপ থেকে বাঁচতে কয়েকজন অসুস্থ মানুষ দাঁড়িয়ে গাছতলায়। তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন হাসপাতালের টেকনিশিয়ান রাহুল মুখোপাধ্যায়।

সামনের বেঞ্চে রাখা সোয়াব পরীক্ষার কিট। রোগীদের তালিকা ধরে নাম ডাকছেন রাহুল তারপর করোনা পরীক্ষা করতে আসা রোগীরা একে একে সেই কিট গলার ভেতর ঢুকিয়ে লালা সংগ্রহ করে নিজেরাই নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দিচ্ছেন। অনেকে সঠিক ভাবে নিতে না-পারায় লালারস নিতে গিয়ে অসুস্থও হয়ে পড়েন। টেকনিশিয়ানের অবশ্য কোনও হেলদোল নেই। আরটিপিসিআর পদ্ধতিতে করোনা সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য সোয়াব সংগ্রহের এই খবর এ দিন সকালে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হতেই নড়েচড়ে বসেন স্বাস্থ্যকর্তারা। তড়িঘড়ি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে ল্যাব টেকনিশিয়ান রাহুল মুখোপাধ্যায়কে শোকজ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের ৫ জন কর্মীর মধ্যে ৪ জনই করোনা আক্রান্ত। যে গ্লাভস পরে সোয়াব সংগ্রহ করি তাও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। মাইকের তার কেটে যাওয়ায় সেটাও খারাপ। সকালে পিপিই কিট পরে বেশ কিছুক্ষণ নমুনা সংগ্রহ করেছিলাম। তারপর গরমে অসুস্থ বোধ করায় রোগীদের নিজেদেরই ওই কাজ করতে বলি।’ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘ল্যাব টেকনিশিয়ানকে শোকজ করা হয়েছে। যা হয়েছে তা খুব অন্যায়। চিঠি পাওয়ার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কলকাতার তাপমাত্রা ৪০ ছুঁইছুঁই, কবে স্বস্তি ফেরাবে বৃষ্টি?
করোনার RT-PCR পরীক্ষার জন্য ন্যাসো-ফ্যারিঞ্জিয়াল সোয়াব লাগে। অর্থাৎ নাকের ভিতর (ন্যাসো) এবং গলার (ফ্যারিঙ্গস) মধ্যে থেকে সোয়াব নমুনা সংগ্রহ করতে হয়। প্রশিক্ষণ ছাড়া এ কাজ অসম্ভব। এতে নমুনার মান খারাপ হওয়ার জেরে RT-PCR পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসার সম্ভাবনা থাকে। ফলে, আদতে পজিটিভ রোগীরও করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট হয়তো নেগেটিভ আসবে। এবং এমন উসর্গহীন ও মৃদু উপসর্গযুক্ত ব্যক্তি হয়তো এ জন্য অজ্ঞাতে সংক্রমণটা ছড়াতে থাকবেন নিজেকে সুস্থ ভেবে।
টিকা কিনতে লাগবে আরও বেশি টাকা, দাম জানাল ভারত বায়োটেক
সাধারণত করোনা পরীক্ষার জন্য সোয়াব সংগ্রহ করে তা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। সেখান থেকেই রিপোর্ট পাঠানো হয় জঙ্গিপুর মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। তারপর সেই রিপোর্ট জানতে পারেন রোগীরা। রঘুনাথগঞ্জের বাসিন্দা সায়ন্তিকা দাস এদিন তাঁর মাকে নিয়ে এসেছিলেন হাসপাতালে। সায়ন্তিকা বলেন, ‘গলার ভিতর থেকে নিজেদেরই সোয়াব নিতে হয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। ল্যাব টেকনিশিয়ান বলেছিলেন, তাহলে বহরমপুরে যেতে হবে পরীক্ষার জন্য। তাই বিতর্ক আর বাড়াইনি। তাঁর কথা মতো নিজেরাই করে দিই।’ জঙ্গিপুর পুরসভার বাসিন্দা অচিন্ত্য দাস বলেন, ‘আমার এক আত্মীয়ের করোনা হওয়ায় আমি পরীক্ষা করাতে গিয়েছিলাম। প্রায় দু’ঘণ্টা দাঁড়ানোর পর নিজেকেই সোয়াব সংগ্রহ করতে হয়েছে।’ হাসপাতাল সুপার সায়ন দাস বলেন, ‘আমাকে নিয়ে প্রায় ৫০ জন করোনা আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতাল চালানো খুব মুশকিল হয়ে পড়েছে। তারমধ্যে ল্যাব টেকনিশিয়ান নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়ায় রোগীদের দিয়ে কাজটা করানো হয়েছে। যদিও কাজটি ঠিক হয়নি। এই ধরনের কাজ ভবিষ্যতে যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে।’

টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের YouTube পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।






Source link