covid19: সংক্রমণে স্বস্তিই কি সিঁদুরে মেঘ – experts are worried about third wave of covid19 in india

Share Now





হাইলাইটস

  • দেশে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা কমছে।
  • শুক্রবারের হিসেব বলছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে সংক্রামিত হয়েছেন ৬২,৪৮০ জন। যা বৃহস্পতিবারের তুলনায় হাজার পাঁচেক কম।
  • সবথেকে ইতিবাচক তথ্য এসেছে মৃত্যুর খতিয়ানে।

এই সময়: সাদা চোখে স্বস্তির সময়। কিন্তু তলিয়ে দেখলে ঠিক এই মুহূর্তে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশের কোভিড পরিস্থিতি।

দেশে সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা কমছে। শুক্রবারের হিসেব বলছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে সংক্রামিত হয়েছেন ৬২,৪৮০ জন। যা বৃহস্পতিবারের তুলনায় হাজার পাঁচেক কম। সবথেকে ইতিবাচক তথ্য এসেছে মৃত্যুর খতিয়ানে। বৃহস্পতিবার যেখানে মৃতের সংখ্যা ছিল ২,৩৩০, সেখানে শুক্রবার ১,৫৮৭। বাংলায় শুক্রবার আক্রান্তের সংখ্যা ২,৭৮৮। বৃহস্পতিবার তা ছিল ৩,০১৮। মৃতের সংখ্যা বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবারে ৬৪ থেকে কমে হয়েছে ৫৮। অতএব, খানিকটা স্বস্তির অবকাশ তৈরি হয়েছে, অন্তত সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে যা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। কিন্তু এই স্বস্তিই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে পরিণত হয়ে গত জানুয়ারিতে ঘোরতর বিপদ ডেকে এনেছিল।

এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তো বটেই, আদালত পর্যন্ত পইপই করে মনে করিয়ে দিচ্ছে, এখন যদি পা বিন্দুমাত্র ফস্কায়, তা হলে ভয়ঙ্কর পস্তাতে হতে পারে। ঠিক যেমনটা গত জানুয়ারিতে হয়েছিল করোনার প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ের মাঝের সময়টায়। দিল্লি হোক বা মহারাষ্ট্র কিংবা বাংলা- সংক্রমণের হার কমতে দেখেই দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো যাবতীয় কোভিড-বিধি সরিয়ে রেখে পথেঘাটে নেমে পড়েছিলেন প্রচুর মানুষ। যার অনিবার্য পরিণতি ছিল দ্বিতীয় ঢেউ, যার কামড় ছিল প্রথমের থেকে বহুগুণ মারাত্মক। সেই ঢেউ এখন খানিকটা স্তিমিত হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তৃতীয় ঢেউয়ের চোখরাঙানি সামনে রেখে এবার যদি ফের সেই বেয়াক্কেলেপনার প্রদর্শন চলে, তা হলে বিপদ কোথায় দাঁড়াতে পারে, তার কোনও তল পাচ্ছেন না চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

ঘটনা হলো, বিভিন্ন রাজ্যে আনলক পর্ব শুরু হতেই কোভিড-বিধি ভুলে ভিড়ের ছবি নজরে আসছে। শুক্রবারই তা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। মহারাষ্ট্র সরকার নিযুক্ত বিশেষ টাস্ক ফোর্সের রিপোর্টেও সেই চিন্তারই ইঙ্গিত। ঘটনাচক্রে, দেশে দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা সবথেকে বেশি যে রাজ্যগুলিতে লেগেছিল, তার উপরের দিকে ছিল এই দুই জায়গাই। মেডিক্যাল জার্নাল ‘ল্যানসেট’-এর ওয়েবসাইটে ২১ বিশেষজ্ঞ মিলে করোনার ‘প্রত্যাবর্তন’ ঠেকাতে আট দফা প্রস্তাবও দিয়েছেন।

ফিরবে না ছেলে, করোনা গবেষণায় দেহ দান বাবার
দিল্লিতে সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণের রাশ একটু একটু করে শিথিল করা হচ্ছে। কিন্তু তাতেই দোকানপাটে, হাটেবাজারে যে ভাবে কোভিড-বিধি শিকেয় তুলে লোকজন ভিড় জমাতে শুরু করেছে, তাতে চিন্তিত দিল্লি হাইকোর্ট। কোর্টের বক্তব্য, এ সব ঘটতে থাকলে তৃতীয় ঢেউয়ের আগমন দ্রুততর হবে। বিচারপতি নবীন চাওলা এবং বিচারপতি আশা মেননের ভেকেশন বেঞ্চ শুক্রবার বিষয়টি তোলে। হাইকোর্টের এক বিচারপতিকে এইমসের এক চিকিৎসক দিল্লির বাজারে ভিড়ের ছবি পাঠিয়েছিলেন। সেই ছবির প্রসঙ্গ তুলে বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ- ‘দ্বিতীয় ঢেউয়ে আমাদের বিপুল মূল্য চোকাতে হয়েছে। আমাদের এমন কোনও বাড়ি জানা নেই, যেখানে দ্বিতীয় ঢেউয়ে কোভিডের প্রভাব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে পড়েনি। এ সব ছবি দেখে নাগরিক হিসেবে আমরা শঙ্কিত। এ ধরনের অনিয়ম তৃতীয় ঢেউকে ত্বরান্বিত করবে। আর তা-ই যদি শেষ পর্যন্ত হয়, তা হলে ঈশ্বরই আমাদের রক্ষা করতে পারেন।’ আনলক-পদ্ধতি নিয়ে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে কেন্দ্র এবং দিল্লি সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

ঠিক একই সুরে মহারাষ্ট্র সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের রিপোর্ট, যা সম্প্রতি জমা পড়েছে। সূত্রের খবর, আনলকে কোভিড-বিধি ভুলে ফের লোকজনের বেরিয়ে পড়ার ছবিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের সতর্কবার্তা, এর ফলে পূর্বাভাসে বলা সময়ের (মোটামুটি অক্টোবর-নভেম্বর) অনেক আগেই মহারাষ্ট্রে করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। মহারাষ্ট্র সরকার গঠিত কোভিড টাস্ক ফোর্সের সদস্য রাহুল পণ্ডিত বলেন, ‘যদি প্রত্যাশিত সময়ের আগেই তৃতীয় ঢেউ আসে, তা হলে আমাদের সেইমতো প্রস্তুত থাকতে হবে। মোকাবিলায় একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক মডেল সামনে রেখে এগোতে হবে। পৃথিবীর নানা প্রান্তে কী ঘটছে, তা-ও দেখতে হবে।’ কী সেই গাণিতিক মডেল? রাহুল পণ্ডিতের বক্তব্য, ‘সাধারণত দু’টি ঢেউয়ের মধ্যে ১০০-১২০ দিনের ব্যবধান থাকে। কিছু কিছু দেশে ১৪-১৫ সপ্তাহের ব্যবধান দেখা গিয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে সপ্তাহ আটেকের ব্যবধানও দেখা গিয়েছে। কাজেই কোভিড-বিধি পালনে কোনও ঢিলেমি চলবে না।’

মহামারী বিশেষজ্ঞ দীপিকা সুরের সতর্কবার্তা, ‘কোভিডের এখন তো আবার নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসছে। টিকা নিয়েও কেউ কেউ সংক্রামিত হচ্ছেন। অর্থাৎ, টিকা নিয়েছি মানেই আমি নিরাপদ, এমনটা ভেবে কোভিড-বিধি ভুলে রাস্তায় নেমে পড়া মানে চূড়ান্ত বোকামো।’ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ দোলুইয়ের কথায়, ‘প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ের মাঝে যে ভুল আমরা করেছিলাম, তার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হয়েছে। তাই এই মুহূর্তে করোনা কমে গিয়েছে ধরে নিয়ে কোভিড-বিধি ভুললে বিপদ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা আঁচ করা কঠিন।’

এবার জলেও করোনা! এই নদী থেকে নেওয়া সমস্ত স্যাম্পেলেই মিলল সংক্রমণ
এই পরিস্থিতিতে ‘ল্যানসেট’-এ ২১ জন বিশেষজ্ঞ মিলে করোনার নতুন করে ফিরে আসা ঠেকাতে এবং তার প্রকোপ কমাতে আটটি পরামর্শ দিয়েছেন। এই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক দেবী শেঠি, বাইকনের কিরণ মজুমদার শ’র মতো ব্যক্তিত্ব। তাঁদের আট পরামর্শ- জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণ, জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে দেশব্যাপী অভিন্ন স্বচ্ছ মূল্য-নীতির প্রণয়ন, প্রমাণ-নির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে কোভিড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম গড়ে তোলা, সরকারের তথ্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, কোভিড মোকাবিলায় পর্যাপ্ত মানবসম্পদ এবং চিকিৎসা সামগ্রী এবং ওষুধের জোগান নিশ্চিত করা, টিকাকরণে অগ্রাধিকার ঠিক করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে দেওয়া, কোভিড-যুদ্ধে জনতাকে সামিল করা এবং করোনার কোপে কাজ হারানো দরিদ্র মানুষদের হাতে যতটা সম্ভব নগদের জোগান নিশ্চিত করা।






Source link