COVID hospital: বেড তো বেড়েছে, কিন্তু ডাক্তার-নার্স? – west bengal government increase bed for covid patients but problem occurs as the number of doctors and medical staff remains same

Share Now





হাইলাইটস

  • চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত হলেও, গত কয়েক সপ্তাহে বিপুল সংখ্যক, প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে রাজ্যে।
  • অথচ সেই অনুপাতে এতটুকু বাড়েনি মানবসম্পদ।
  • বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিষেবার মান পড়ে যাওয়ার নেপথ্যে আসলে রয়েছে লোকবলের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন আচমকা বেড বৃদ্ধি।

এই সময়: করোনা নিয়ে প্রায় দু’ সপ্তাহ এমআর বাঙুরে ভর্তি আছেন সোনারপুরের প্রৌঢ়। গত এক সপ্তাহে তাঁর অভিজ্ঞতা, পরিষেবায় তেমন অবনতি না-হলেও চিকিৎসক-নার্সের দেখা মিলছে আগের চেয়ে অনেক কম। আরজি করের কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি যুবকের অভিযোগ, প্রেসক্রিপশনে ডাক্তারবাবু সকালের রাউন্ডে এসে ওষুধ বদলে দিলে, সেই নতুন ওষুধ সন্ধ্যার আগে পড়ছে না। ‘নার্স দিদিকে ডাকলে তো সাড়াই মেলে না,’ মন্তব্য তাঁর।

একই রকম অনুযোগের সুর আইডি-তে চিকিৎসাধীন অনেক রোগীর গলাতেও। এক রোগীর আত্মীয়ের বক্তব্য, ‘ফেব্রুয়ারিতে বাবা ভর্তি হয়েছিলেন যখন, তখনও দু’বেলা ডাক্তারবাবু রাউন্ড দিতেন। এখন এক দাদা ভর্তি। শুনছি, একবারের বেশি নাকি রাউন্ড হয় না।’ এমন অভিযোগ এখন শুনতে পাওয়া যাচ্ছে বহু কোভিড হাসপাতালেই। চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত হলেও, গত কয়েক সপ্তাহে বিপুল সংখ্যক, প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে রাজ্যে। অথচ সেই অনুপাতে এতটুকু বাড়েনি মানবসম্পদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিষেবার মান পড়ে যাওয়ার নেপথ্যে আসলে রয়েছে লোকবলের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন আচমকা বেড বৃদ্ধি।

শুক্রবার স্বাস্থ্য দপ্তরের নথি বলছে, গত একমাসে এমআর বাঙুরে ৪৪১ থেকে বেড বেড়ে হয়েছে ৬০৩টি। একই ছবি আরজি কর (৬০ থেকে বেড়ে ১১০) এবং আইডি-তে (১৬৫ থেকে বেড়ে ৩১৫)। দেখা যাচ্ছে, কমবেশি সব হাসপাতালেই কোভিড চিকিৎসার উপযোগী বেড বেড়েছে সম্প্রতি। সেই সূত্রেই রাজ্যে সরকারি কোভিড বেড ৫৬০৪ থেকে একমাসে বেড়ে হয়েছে ৯৬৫১। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিক্যাল কর্মীর সংখ্যা যা ছিল, তা-ই আছে। স্বাস্থ্যকর্তাদের আক্ষেপ, ‘সমস্যার কথা অজানা নয়। কিন্তু চাইলেই তো আর ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা রাতারাতি বাড়ানো যায় না!’

রাজ্যে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি, রেকর্ড মৃত্যু, আক্রান্ত ১৭ হাজারের উপর
এ সমস্যা শুধু বাংলার নয় অবশ্য। সারা দেশেই এই ভারসাম্যের অভাব প্রকট। ফলে বেডের সংখ্যা বাড়লেও, আইসিইউ-সিসিইউ-ভেন্টিলেট বাড়লেও, প্রত্যাশিত চিকিৎসা এখনও অধরা সিংহভাগ জায়গাতেই। এই সঙ্কট মেটানোর একটি রাস্তা অবশ্য সম্প্রতি উঠে এসেছে মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার পরিচালন পর্ষদের প্রাক্তন প্রধান, বিখ্যাত হৃদ-শল্য চিকিৎসক দেবি শেঠির গলায়। বুধবার একটি সর্বভারতীয় অনলনাইন আলোচনাচক্রে তিনি প্রস্তাব দেন কেন্দ্রীয় সরকারকে, যাতে ডাক্তারি-নার্সিং-প্যারামেডিক্যাল পাঠ্যক্রমের চূড়ান্ত বর্ষে থাকা তরুণ-তরুণীদের অবিলম্বে চূড়ান্ত পরীক্ষার আগেই কোভিড পরিষেবায় নিয়োগ করা হয়। এতে এক ধাক্কায় কমপক্ষে লক্ষাধিক নার্স, ৭০ হাজার চিকিৎসক ও লাখ দেড়েক স্বাস্থ্যকর্মী মিলবে চটজলদি।

রাজ্যের নির্দেশিকা জারির পরেই জেলা থেকে কলকাতায় ভিড় বাড়ল দোকান-বাজারে
মহামারী বিশেষজ্ঞ দীপিকা শূর মনে করেন, এই প্রস্তাব যথেষ্ট বাস্তবসম্মত ও যুক্তিপূর্ণ। কেননা, এতে অল্প সময়ে সঙ্কট অনেকটাই মিটতে পারে। শেঠির সুরেই তিনি বলেন, ‘যাঁদের ফাইনাল পরীক্ষাটুকু বাকি আছে, তাদের তো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ আছেই। তা হলে তাদের কাজে লাগাতে সমস্যা কোথায়? হুবহু এমনটা না-হলেও, একই লক্ষ্যে দিল্লি সরকারও সম্প্রতি নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করছে। সেখানে বিভিন্ন কোভিড হাসপাতালে কাজের জন্য জুনিয়র ডেন্টিস্ট ও আয়ুষ চিকিৎসকদেরও আহ্বান জানানো হয়েছে বিজ্ঞাপনে। নার্সিং পড়ুয়াদের, এমনকী ফার্স্ট-এইড জানা মেয়েদেরও নিয়োগ করা হচ্ছে কোভিড হাসপাতালে।’

এ রাজ্যেও কি তেমনটা সম্ভব নয়? স্বাস্থ্যভবনের কর্তারা জানাচ্ছেন, এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে। ফলে অনেক ইন্টার্ন পাওয়া যাচ্ছে যাঁদের কোভিড পরিষেবায় কাজে লাগানো হবে। এমডি-এমএস পরীক্ষা পিছিয়ে গিয়েছে। ফলে স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদেরও পরিষেবায় পাওয়া যাবে। চিকিৎসকের অভাব এতে বেশ কিছুটা মিটবে। এরই পাশাপাশি, সব শাখার চিকিৎসকদের, এমনকী প্রি-ক্নিনিক্যাল ও প্যারা-ক্লিনিক্যাল শাখার যে সব শিক্ষক-চিকিৎসক ও স্নাতকোত্তর পড়ুয়া সাধারণত রোগী দেখেন না, তাঁদেরও কোভিড পরিষেবায় যোগ দেওয়ার আদেশনামা জারি করেছে স্বাস্থ্যভবন। এসএসকেএমের শিক্ষক-চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকার বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে যে, সব শাখার তামাম স্তরের সব চিকিৎসককেই কোভিড পরিষেবা দিতে হবে। ফলে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসকের অভাব দেখা যাচ্ছে না।’

টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের YouTube পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।






Source link