covid helpline: কান্না শুনতে পাচ্ছেন তাঁরা, মানুষ হয়ে তাই চেষ্টা পাশে দাঁড়ানোর – people helping others during the covid crisis

Share Now





হাইলাইটস

  • শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে ৬২ বছরের অশোক গুপ্ত ভায়ার ব্যবসা রয়েছে।
  • পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেন নিজের ছোট গাড়িতে রোগীদের পৌঁছে দেবেন হাসপাতালে।
  • কলকাতার গড়িয়ায় বাড়ি রাজা সেনের। নিজে একজন গাড়ির চালক। পাশে দাঁড়াচ্ছেন তিনিও।

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: হাসপাতালে করোনা রোগীদের নিয়ে যেতে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া দিন দিন মুশকিল হয়ে পড়ছে। সেই অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া গেলেও ভাড়া শুনেই আঁতকে উঠছেন অনেকে। ৫০০০-১২০০০ টাকা ভাড়া চেয়ে বসছেন একাংশ চালকরা। এই দুঃসময়ে নিজের কথা না ভেবে শহরবাসীর জন্য জন্য এগিয়ে এলেন শিলিগুড়ির এক ব্যবসায়ী। নিজের গাড়িতেই করোনা রোগীদের পৌঁছে দিচ্ছেন হাসপাতালে।

শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে ৬২ বছরের অশোক গুপ্ত ভায়ার ব্যবসা রয়েছে। তিনি নিজে একজন হৃদরোগী। দু বছর ধরে চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসার জন্য মাঝেমধ্যেই বাইরে যেতে হয় তাঁকে। গত কয়েকদিন ধরে দেখছেন শহরে বহু মানুষ গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সের জন্য হাসপাতালে যেতে সমস্যায় পড়ছেন। তারপরই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেন নিজের ছোট গাড়িতে রোগীদের পৌঁছে দেবেন হাসপাতালে। তাও আবার বিনামূল্যে। আর তার সঙ্গী হয়েছেন এক গাড়ির চালক। দু’জনে পিপিই, মাস্ক, গ্লাভস পরে রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন। গাড়িতে রোগীর সঙ্গে আরও একজনের বসার ব্যবস্থাও রেখেছেন৷ ইতিমধ্যেই তিনি নানা জায়গায় প্রচার করেছেন কোথাও মানুষ গাড়ি নিয়ে অসুবিধায় পড়লেই যেন তাঁকে ফোন ও ম্যাসেজ করে।

তবে ৬২ বছর বয়সে এসেও এতো ঝুঁকি কেন? প্রশ্নের উত্তরে অশোক বাবু বলছিলেন, ‘মরতে তো একদিন হবেই। আর মারা গেলে ভালো কাজ করেই মারা যাব। এখন তো অনেকে ঘরে বসেও করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।’ তাঁর মতো আরও অনেকেই এগিয়ে এসে মানুষের পাশে দাঁড়াক এমনটাই চাইছেন তিনি। তবে যেভাবে শহরে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিও ওষুধ, খাবার করোনা রোগীদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে।

তাজপুরে অসুস্থ বৃদ্ধাকে ফেলে দিয়ে গেল পরিবারের লোকজন

তবে তিনি একা নন। কলকাতার গড়িয়ায় বাড়ি রাজা সেনের। নিজে একজন গাড়ির চালক। সোশ্যাল সাইটে পোস্ট করেছিলেন, ‘আমি একজন গাড়ির চালক। করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ অসুস্থ হয়ে থাকেন, হাসপাতালে নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়লে সেক্ষেত্রে আমায় ফোন করতে পারেন।’ নিজের ফোন নম্বরও পোস্ট করেন তিনি। এদিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মন থেকেই এই কাজটা আমি করতে চাই। বৃহস্পতিবার একজন অক্সিজেন নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন। সেই সমস্যা সাধ্যমতো মিটিয়েছি।’ অশোক, রাজাদের মতো মানুষদের আরও বেশি এখন দরকার এই সমাজে, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একজনকে যেমন দমাতে পারেনি বয়স, আরেক নিজের অর্থনৈতিক অবস্থা না ভেবেই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের YouTube পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।






Source link