Chirag Paswan Takes All LJP MPS – চাচা-ভাতিজা ঝড়ে নিভু-নিভু চিরাগ, নেপথ্যে কি নীতীশ | Eisamay

Share Now





এই সময়, নয়াদিল্লি: আইসোলেশনে চিরাগ পাসওয়ান (Chirag Paswan)। না, করোনা নয়। রাজনীতির প্যাঁচে নিজের দলেই রাতারাতি একঘরে ‘লোক জনশক্তি পার্টির’ (LJP) প্রধান চিরাগ। তাঁকে সরিয়ে চিরাগের কাকা পশুপতি কুমার পরশ কিংবা অন্য কাউকে দলের মাথায় বসানো হোক- এই দাবি তুলেই ‘দল বাঁচাতে’ চিরাগের সঙ্গত্যাগের হুমকি দিলেন এলজেপি-র পাঁচ বিদ্রোহী সাংসদ। সূত্রের খবর, তাঁদের যেন আর এলজেপি সাংসদ হিসেবে বিবেচনা না করা হয়, ইতিমধ্যেই বিদ্রোহীরা সেই আর্জি পেশ করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে।

এ দিকে বাবার তৈরি দল বাঁচাতে মরিয়া রামবিলাস-পুত্র। এ দিনই দিল্লিতে কাকার বাড়ির সামনে দেখা যায় চিরাগের গাড়ি। কিন্তু পরশ অধরাই। পাক্কা ৪৫ মিনিট গাড়িতে বসে থেকে-থেকেই ফিরতে হলো চিরাগকে।

সূত্রের খবর, সমঝোতার অঙ্কে নিজে সরে গিয়ে মা-কে পার্টি সুপ্রিমো করার প্রস্তাবও দিয়েছেন চিরাগ। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, আসলে চাচার চক্রান্তেই বিপাকে ভাতিজা। নরেন্দ্র মোদীর বর্ধিত মন্ত্রিসভায় আসতে চাইছেন চিরাগ। হাজিপুর থেকে প্রথম বারের নির্বাচিত সাংসদ পরশেরও লক্ষ্য তা-ই। বিশেষজ্ঞদের অন্য অংশ কিন্তু মনে করছেন, আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডি(ইউ) প্রধান নীতীশ কুমারই। কারণ, গত বছরের ভোটে এনডিএ-র সঙ্গ ছেড়ে চিরাগের আলাদা লড়ার জন্যই ভোট কাটাকুটির অঙ্কে বিহারের বিজেপি, আরজেডি-র পরে জায়গা পায় নীতীশের দল। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এ দিন সকালেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নীতীশকে এক বার ‘খুব বড় নেতা’ এবং ‘বিকাশ পুরুষ’ বলে উল্লেখ করেন এলজেপি-র বিদ্রোহী সাংসদ পরশ। বলেন, ‘আমাদের এই সিদ্ধান্ত দলকে বাঁচাতেই। এলজেপি-র ছ’জন সাংসদের মধ্যে আমরা পাঁচ জনই পার্টি-প্রধান হিসেবে চিরাগকে চাইছি না। ও আমার ভাইপো, দলের জাতীয় সভাপতিও। থাকুক না, আপত্তি নেই। কিন্তু নেতৃত্বে নয়। আমরা এনডিএ-র সঙ্গে থেকেই দলটাকে রক্ষা করতে চাইছি।’ সূত্রের খবর, কয়েক মাস ধরেই নীতীশের সঙ্গে দহরম-মহরম গড়ে উঠেছে পরশের। এলজেডি ছেড়ে পরশ, প্রিন্স রাজ, চন্দন সিং, বীণা দেবী, মেহবুব আলি কাইজাররা কি তাহলে নীতীশের দলেই ভিড়বেন? আপাতত সেই জল্পনাই সবচেয়ে জোরালো। চিরাগের এই কোণঠাসা পরিস্থিতির পিছনে নীতীশের বদলার জল্পনা যে অমূলক নয়, তা কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েই জেডি(ইউ)-এর জাতীয় সভাপতি আরসিপি সিং এ দিন বলেন, ‘যেমন বীজ বুনবেন, ফসল তো তেমনই হবে! চিরাগের এটাই হওয়ার ছিল। এনডিএ-র শরিক দলের প্রধান হয়ে ভোটের মুখে হঠাৎ এনডিএ ছাড়ার ওঁর এই স্টান্সই ভরাডুবির আসল কারণ। এখন নিজেই দলে কোণঠাসা!’

চাচা-ভাতিজার এই ফাটলটা নজরে এসেছিল গত বছর বিহার বিধানসভা ভোটের সময়েই। এনডিএ-র সঙ্গ ছেড়ে চিরাগের আলাদা লড়ার সিদ্ধান্তে একেবারেই সায় ছিল না রামবিলাসের ছোট ভাইয়ের। এ দিকে, ভোটের আগে কাকার মুখে লাগাতার নীতীশ- বন্দনাও নাকি ভালো ভাবে নেননি চিরাগ। গত বছর ৮ অক্টোবর মারা যান রামবিলাস। সূত্রের খবর, এর চার দিনের মাথায় নীতীশের প্রশংসা করায় কাকাকে দল থেকে ছেঁটে ফেলার হুমকি দিয়ে চিরাগ বলেছিলেন, ‘তুমি আমার রক্তের সম্পর্কের কেউ না।’ জবাবে পরশ তখনই নাকি বলে দিয়েছিলেন- ‘তাহলে ধরে নাও, এখন থেকেই আমি তোমার কাকা নই।’ এর পর নভেম্বরে ভোট হয়েছে। বিস্তর জল গড়িয়েছে গঙ্গায়। কিন্তু চাচা-ভাতিজার নাকি মুখ দেখাদেখিই বন্ধ! কথা যা হয়, শুধু চিঠিতে।

তবে চিরাগের এই হাল কিন্তু শুধু তাঁর কাকা কিংবা নীতীশের চক্রান্তের কারণে নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। দলের মধ্যে অনেক দিন ধরেই নাকি তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলজেডি নেতা বললেন, ‘এটাই হওয়ার ছিল। চিরাগের ঔদ্ধত্য আর মাত্রাতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই কাল হলো। ভোটের পরে কথা দিয়েছিলেন, রাজ্যের সর্বত্র গিয়ে পার্টির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন। এখনও সেই সময় হলো না তাঁর। সব সিদ্ধান্ত নিজের মতো করে নিলে, দলের সবাই তা মানবে কেন!’






Source link