Aroop Biswas And Babul Supriyo In Tollygunge Assembly – ঘরের লোক বনাম মস্তান-তালিকা | Eisamay

Share Now





হাইলাইটস

  • টালিগঞ্জে প্রার্থী হওয়ার পরে এলাকার সমাজবিরোধীদের সম্পর্কে রীতিমতো থিসিস পেপার তৈরি করে ফেলেছেন বাবুল।
  • নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা বাংলায় জনসভা করে বারবার বলছেন, ‘এ রাজ্যে রাজনীতির সমাজবিরোধীকরণ হয়েছে।’
  • বাবুলের কাণ্ডকারখানাকে তৃণমূল অতিনাটকীয় আখ্যা দিচ্ছে।

মণিপুষ্পক সেনগুপ্ত

উল্লা, পল্টন, লঙ্কাই, আমবাগানের বাবাই, শেখ বিনোদ। টলি ক্লাবের ৩১২ নম্বর ঘরে বসে বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo) বললেন, ‘জাস্ট স্যাম্পেল হিসেবে টালিগঞ্জের কয়েকজন ক্রিমিনালের নাম বললাম। ওয়ার্ডভিত্তিক ক্রিমিনালদের নামও মুখস্থ। চাইলে শুনিয়ে দেবো।’

টালিগঞ্জে প্রার্থী হওয়ার পরে এলাকার সমাজবিরোধীদের সম্পর্কে রীতিমতো থিসিস পেপার তৈরি করে ফেলেছেন বাবুল। তাঁর অনুগামীরা বলছেন, এটাই নাকি ‘দাদার’ স্টাইল। বরাবরই চেনা ছকের বাইরে খেলেন। অনুগামীদের বক্তব্য, সমাজবিরোধীদের নিয়ে এমন হোমওয়ার্ক কলকাতা শহরের আর কোনও ভোটপ্রার্থী করেছেন বলে মনে হয় না।

নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা বাংলায় জনসভা করে বারবার বলছেন, ‘এ রাজ্যে রাজনীতির সমাজবিরোধীকরণ হয়েছে।’ আসানসোলের সাংসদ হিসেবে জিতে আসার পরেও টালিগঞ্জের মাটিতে অন্তত সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন বলেই দাবি বাবুলের। যেখানেই প্রচারে যাচ্ছেন, সেখানেই বাবুলের মুখে ওই এলাকার কোনও না কোনও মস্তানের নাম। টালিগঞ্জ এলাকার এক বিজেপি নেতার কথায়, ‘তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। বাবুল প্রতিটি সভায় যে ভাবে পাড়ার উঠতি মস্তানদেরও চিহ্নিত করছেন, তাতে ভরসা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।’

বাবুলের কাণ্ডকারখানাকে তৃণমূল অতিনাটকীয় আখ্যা দিচ্ছে। স্টেশনের বাইরে দাঁড়িয়ে স্থানীয় এক যুব তৃণমূলকর্মী বললেন, ‘এই এলাকায় অরূপদাকে হারানো সহজ হবে না। বাবুল সুপ্রিয় দুষ্কৃতীদের নাম মুখস্থ বলতে পারবেন। আর অরূপদা বুথ ধরে ধরে ভোটারদের নাম মুখস্থ বলে যাবেন। এটাই ঘরের ছেলে আর বহিরাগতর পার্থক্য।’

প্রচারে বিজেপির বাবুল সুপ্রিয় এবং তৃণমূলের অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas) কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ। বাবুল মাইক ফুঁকে বলছেন টালিগঞ্জ এলাকায় শাসকদলের মদতে বেড়ে ওঠা দুষ্কৃতীদের কথা। টলিপাড়ার শিল্পীদের যন্ত্রণার কথা। অন্যদিকে, অরূপ বাড়ি বাড়ি ঘুরে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, তাঁর ৩৬৫ দিন এলাকার মানুষের পাশে থাকার কথা।

এই যুদ্ধে আরও একজন আছেন। তিনি টলিউড অভিনেতা দেবদূত ঘোষ। সিপিএমের একমাত্র ‘তারকা’ প্রার্থী। গত লোকসভা ভোটের নিরিখে সিপিএম টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে দ্বিতীয় হয়েছিল। বিজেপি তৃতীয়। কিন্তু এ বার হাওয়া গোটা রাজ্যেই অন্য রকম। ফলে তিন নম্বরে থাকা বিজেপি এক নম্বরে উঠে আসার স্বপ্ন দেখছে। তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস অবশ্য হেসে বললেন, ‘লড়াইটা দ্বিতীয় আর তৃতীয় হওয়া নিয়ে। প্রথম আমিই হচ্ছি। সেই বিষয় কোনও সন্দেহ নেই। দেওয়াল লিখন স্পষ্ট।’

এমনিতে টালিগঞ্জ এলাকায় বিজেপির সংগঠন সে রকম মজবুত নয়। কিন্তু প্রার্থী হেভিওয়েট হওয়ার সুবাদে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। তবে ভোট যে আসলে অঙ্ক, বিলক্ষণ জানেন বাবুল। তিনি বুঝে গিয়েছেন, টালিগঞ্জের বাম ভোট বেসুরো গাইলে ভোটের খেলায় তাঁর হ্যাটট্রিক করা হবে না। সারাদিনের প্রচার সেরে টলি ক্লাবের সোফায় গা এলিয়ে বাবুল বললেন, ‘আমি এই এলাকার সিপিএম সমর্থকদের বলছি, আপনারা আর যা-ই হোক, বিজেপিকে ঠেকাতে তৃণমূলকে ভোট দেবেন না। মনে রাখবেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের কমন শত্রু।’
কলকাতায় নির্বাচনের আগেই ৮ রিটার্নিং অফিসারকে সরাল কমিশন
তবে টালিগঞ্জের বাম সমর্থকদের ভোট এ বার কোন দিকে যাবে, তা এখনই হলফ করা বলা যাচ্ছে না। রানীকুঠির কাছে একটি চায়ের দোকানে বসে এলাকার এক প্রবীণ বাম কর্মী কিঞ্চিৎ আক্ষেপের সুরে বললেন, ‘আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে বিজেপি সব থেকে বড় শত্রু। তাই ওদের ঠেকানো সবার আগে জরুরি। দেবদূত ছেলে ভালো। কিন্তু জিততে পারবে না। তাই হয়তো এই প্রথমবার ভোটটা ঘাসফুলে দেব।’ দেবদূত নিজে অবশ্য যথেষ্ট আশাবাদী। কার ভোটে কার শিকে ছিঁড়বে, এই সমীকরণে মাথা না-ঘামিয়ে তিনি বলছেন, ‘মানুষের ভোটে আমি জিতব। সংযুক্ত মোর্চা জিতবে। ভোট কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়।’ ঠিকই তো, মানুষ কখন কার উপর রাগ করে কোন বোতাম টিপে দেবেন, সেটা টালিগঞ্জ বিধানসভা এলাকার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আদি গঙ্গা জানেন না হয়তো।

এ বারের ভোটে আদি গঙ্গার উন্নয়নকেও উস্যু করেছে তৃণমূল বিরোধী দলগুলি। দশ বছরেও কেন আদি গঙ্গার দিকে অরূপ বিশ্বাস নজর দিলেন না, এই প্রশ্ন তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন বাবুল। এমনকী, দেবদূতও তাঁর প্রচারে আদি গঙ্গার কথা তুলে অরূপ তথা তৃণমূলকে বিঁধছেন।

আগামী দশ তারিখ টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট। ফলে শেষ লগ্নের প্রচার এখন তুঙ্গে টালিগঞ্জের অলি-গলিতে। বাবুল সমাজবিরোধী নাম ধরে ধরে তাদের তৃণমূল-যোগ বাতলে দিচ্ছেন। অরূপ এলাকার উন্নয়নকেই হাতিয়ার করেছেন প্রচারে। আর দেবদূতরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে যতটা সোচ্চার, ততটা বিজেপির বিরুদ্ধে নয়। টলি ক্লাবে বাবুলের ঘরের বাইরে বসে থাকা এক বিজেপি নেতা তাই হয়তো মুচকি হেসে বললেন, ‘টালিগঞ্জের বহু এলাকায় সিপিএম পোস্টার সেঁটেছে, রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ছে কেন, তৃণমূল জবাব দাও। বুঝুন কাণ্ড!’
টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের YouTube পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।






Source link