2dg drug: অক্সিজেন সংকটের মাঝে আশার আলো ২-ডিজি – covid 19 india drdo 2dg drug gives a new hope

Share Now





হাইলাইটস

  • ডিআরডিও-র তৈরি নয়া ২-ডিজি ওষুধ সদ্য কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সবুজ সঙ্কেত পেয়েছে
  • নয়া ওষুধটি যেন এক চিলতে আশার আলো
  • কারণ, করোনা রোগীর অক্সিজেন নির্ভরতা কমায় এ ওষুধ

এই সময়: কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও-র তৈরি নয়া ২-ডিজি ওষুধ সদ্য কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সবুজ সঙ্কেত পেয়েছে। শনিবারই তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের রিপোর্টে সন্তুষ্ট হয়ে ক্যান্সারের পুরোনা এই ওষুধটিকে করোনার চিকিৎসায় জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগের ছাড়পত্র দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)। তার পর থেকেই ওই ওষুধের জন্য চাতকের মতো অপেক্ষায় দেশের চিকিৎসককুলের বড় একটি অংশ।

সকলেই চাইছেন, দ্রুত ওষুধটি বাজারজাত হোক। কেননা, দেশে বর্তমানে প্রবল ভাবে চলছে অক্সিজেন সঙ্কট। সেই সন্ধিক্ষণে নয়া ওষুধটি যেন এক চিলতে আশার আলো। কারণ, করোনা রোগীর অক্সিজেন নির্ভরতা কমায় এ ওষুধ। ওয়াকিবহাল মহলের আশা, মাসখানেকের মধ্যেই বাজারে এসে দ্বিতীয় ঢেউকে শান্ত করতে বড় ভূমিকা নেবে ওষুধটি। কেননা, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ওষুধ রোগীর শরীরে নভেল করোনাভাইরাসের বংশবৃদ্ধি ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম।

এখনও কেন মাসখানেক থাকতে হবে অপেক্ষায়?

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক কর্তা বলছেন, ‘প্রথমত, তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্টটি এখনও কোনও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়নি। এবং দ্বিতীয়ত ও সবচেয়ে বড় কথা হলো, এত বড় দেশের জন্য প্রাথমিক ভাবে কোনও ওষুধ উৎপাদন করতে গেলেও তা যে বিপুল পরিমাণে করতে হবে, তাতে সময় লাগে। মনে রাখতে হবে, এই মুহূর্তে দেশে কিন্তু প্রায় ৩৭ লক্ষ করোনা রোগী আছেন। তাই মাসখানেক সময় তো দিতেই হবে।’

ডিআরডিও-র (ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন) এই নয়া ওষুধ তৈরির নেপথ্যে রয়েছেন যে প্রকল্প অধিকর্তা, সেই বিজ্ঞানী সুধীর চন্দানাও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত বছর এপ্রিলেই তাঁরা বুঝে গিয়েছিলেন, করোনার চিকিৎসায় মোক্ষম দাওয়াই ২-ডিজি। তিনটি ধাপে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্যই সময় লেগে গিয়েছে এক বছর। বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা ডক্টর রেড্ডিজ ল্যাবরেটরির সহায়তায় অচিরেই ওষুধটি বাজারে আসবে বলে জানান তিনি। সুধীরের কথায়, ‘ওষুধটি ট্রায়ালে আমরা প্রয়োগ করেছিলাম মাঝারি থেকে গুরুতর অসুস্থ কোভিড রোগীর শরীরে। একজনের ক্ষেত্রেও মৃত্যু দেখা যায়নি। উল্টে প্রায় সকলেরই দ্রুত নিরাময় হয়েছিল। লক্ষ্যণীয় ভাবে তাঁদের কমে গিয়েছিল অক্সিজেনের চাহিদা।’

Covid রুখতে ডাবল মাস্ক কীভাবে পরবেন? নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের

কী ভাবে কাজ করে ওষুধটি?

ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ সিদ্ধার্থ জোয়ারদার জানান, ২-ডিজি আসলে কৃত্রিম ভাবে তৈরি মডিফায়েড গ্লুকোজ অণু। করোনা-আক্রান্ত কোষের মধ্যে এই অণু ঢুকে পড়ে কোষের স্বাভাবিক বিপাকে বিঘ্ন ঘটায়। গ্লাইকোলাইসিস পদ্ধতির মাধ্যমে স্বাভাবিক গ্লুকোজ ভেঙে কোষের শক্তি তৈরি হওয়া তখন বন্ধ হয়ে যায়। এর জেরে কোষের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ব্যাহত হয়। তাই আক্রান্ত কোষের এমন বিপর্যয়ে ভাইরাসও বংশবৃদ্ধি করতে পারে না।

ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ পার্থসারথি ভট্টাচার্যের কথায়, ‘ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় এবং এক কোষ থেকে অন্য কোষে ছড়িয়ে পড়তে না-পারায়, আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ফুসফুস-সহ নানা অঙ্গের ক্ষতির আশঙ্কা কমে যায় দ্রুত। তাই রোগীর অক্সিজেনের প্রয়োজনও কমে যায় অনেকটা। ওষুধটি প্রয়োগের এখানেই মস্ত বড় লাভ।’

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরিন্দম বিশ্বাস মনে করেন, মাঝারি থেকে গুরুতর অসুস্থদের শরীরে প্রয়োগ করে যদি এত ভালো সাফল্য মেলে, তা হলে যে কোনও করোনা রোগীর শরীরে সংক্রমণটা ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই যদি ২-ডিজি চালু করা যায়, তা হলে সেই রোগীর অবস্থার অবনতি অনেকটাই আটকানো সম্ভব।

করোনাভাইরাসের ভারতীয় স্ট্রেন বিশ্বের জন্য চিন্তার কারণ: WHO

অরিন্দমের বক্তব্য, ‘ওষুধটি সম্পর্কে যা জানিয়েছে ডিআরডিও, সেইমতো বলা যেতেই পারে যে, ঠিক সময়ে ওষুধটি প্রয়োগ করলে রোগীর অক্সিজেনের প্রয়োজনই পড়বে না। ফলে অসংখ্য মৃত্যু আটকে দেওয়া যাবে।’

ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চিরঞ্জীব বাগচির মতে, এই ওষুধটির আণবিক গঠন এতটাই সাদামাটা যে ওষুধটি যে কোনও সংস্থা কম খরচে সহজেই বিপুল পরিমাণ তৈরি করতে পারে। ফলে আগামী দিনে ২-ডিজি ওষুধটির করোনা-সংহারক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রচুর।






Source link