মোদীর প্রতিশ্রুতির খবরই জানে না খোদ খাদ্য মন্ত্রক – ministry of food does not know about pm narendra modi announcement regarding ration in cheap rate

Share Now





তাপস প্রামাণিক

এই সময়:বিধানসভা ভোটের আগে বাংলায় ভোটের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, রাজ্যের সব নাগরিককে রেশনের আওতায় আনা হবে। তাঁদের জলের দরে দেওয়া হবে চাল-গম, ডাল, নুন, চিনি। রাজ্যে চালু করা হবে অন্নপূর্ণা ক্যান্টিন। সেখান থেকে ৫ টাকায় রান্না করা খাবার পাবেন সাধারণ মানুষ। বিধানসভা ভোটের আগে BJP নেতারা বাংলার মানুষকে এই প্রতিশ্রুতি দিলেও সে ব্যাপারে বিন্দুবিসর্গও জানে না কেন্দ্রের খাদ্য মন্ত্রক। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের চিঠির জবাবে খাদ্য মন্ত্রকের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এ রকম কোনও পরিকল্পনা বা ভাবনা-চিন্তা তাদের নেই। সেই চিঠির কপি ‘এই সময়’-এর কাছেও রয়েছে।

এতে প্রশ্ন উঠছে, খাদ্য মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা না করেই শুধুমাত্র কি ভোটের তাগিদেই BJP নেতৃত্ব এ রকম ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাংলার মানুষকে?

রাজ্যের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটে BJP রাজ্যের মানুষকে যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল খাদ্যের নিরাপত্তা। জানানো হয়েছিল, রাজ্যের সব মানুষের জন্য রেশন ব্যবস্থা চালু করা হবে। রেশন থেকে ১ টাকা কেজি দরে চাল-গম মিলবে। ৩০ টাকা কেজিতে ডাল, ৩ টাকা কেজি দরে লবন, ৫ টাকা কেজি দরে চিনি দেওয়া হবে রেশনে। তার সঙ্গে জানানো হয়েছিল, ৫ টাকায় মিলবে দুপুরের খাবার।

দিল্লি নয়, আলাপন গেলেন নবান্নে, ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্র

সাধারণত রেশনে কোনও নতুন পরিষেবা চালু করতে খাদ্য মন্ত্রকের অনুমোদন লাগে। কেন্দ্রীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, সারা দেশে রেশন ব্যবস্থা চালু রাখার দায়িত্ব খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের। রেশনে কম পয়সায় ডাল, নুন, চিনি দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাদের রয়েছে কি না, তা খাদ্য মন্ত্রকের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় খাদ্য সচিব সুধাংশু রায় সৌগতকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, এ রকম কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই। তারা শুধুমাত্র জাতীয় খাদ্যসুরক্ষা যোজনার অন্তর্ভুক্ত মানুষকে ১/২/৩ টাকা কেজি দরে চাল-গম সরবরাহ করে থাকে মাত্র।

এ ব্যাপারে তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের সময় বহুবার বলেছি, BJPএকটা প্রতিশ্রুতি-সর্বস্ব দল। বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরের নেতা-নেত্রীরা তো বটেই, এমনকী দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত যে সব প্রতিশ্রুতি দেন, তার বেশিরভাগই পূরণ হয় না। এটা জনগণের কাছে প্রতিষ্ঠিত সত্য। নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য ওরা অনেক রকম কথা বলেছে। ওদের কথায় বাংলার মানুষ খুব একটা গুরুত্ব দেননি।’

BJPনেতা রাহুল সিনহা বলেন, ‘এটা কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়। ওরাই ভালো বলতে পারবে।’ অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেন, ‘ভোটের সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির কথা শুনে আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। এই দুর্মূল্যের বাজারে সাধারণ মানুষ যদি কম পয়সায় চাল, ডাল, নুন পান তাতে সবারই মঙ্গল। বিষয়টি শোনার পর আমরাও উৎসাহিত হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দিয়ে পুরো বিষয়টি জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন জানতে পারছি, পুরো বিষয়টাই একটা ফাঁকা আওয়াজ।’






Source link