মিউকরমাইকোসিস নিয়ে নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের – center issues new guideline for states for mucormycosis treatment

Share Now





এই সময়: করোনা সেরে ওঠার পর মিউকরমাইকোসিস রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দেশজুড়ে। রাজ্যে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি না হলেও, বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। এ বার মিউকরমাইকোসিস বা চলতি কথায় কালো ছত্রাকের চিকিৎসায় রাজ্যগুলিকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা পাঠাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

কেউ মিউকরমাইকোসিস রোগে আক্রান্ত হলে, তাঁর চিকিৎসায় কী কী ওষুধ ব্যবহার করা যাবে, কী ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে- এ সবই ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে ওই নিয়ম মেনেই চলতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট ওষুধগুলি ছাড়া রোগীর চিকিৎসায় অন্য কোনও ওষুধ যাতে প্রয়োগ করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে নির্দেশিকায়।

তবে চিকিৎসকেরাও জানিয়েছেন, মিউকরমাইকোসিস নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। দরকার সচেতনতা। করোনার আগেও বহু মানুষ মিউকরমাইকোসিস রোগে আক্রান্ত হতেন। তবে কোভিড এবং তার চিকিৎসায় বিভিন্ন ওষুধের প্রয়োগে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে। সে কারণে সুযোগসন্ধানী এই ছত্রাক নিঃশব্দে হামলা করছে শরীরে।

টিকা নীতিতে বদল, দেশজুড়ে বিনামূল্যে ভ্যাকসিনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ইএনটি বিশেষজ্ঞ দীপঙ্কর দত্ত বলেন, ‘মিউকরমাইকোসিস রোগটি নিয়ে ছেলেখেলা নয়। সচেতনতা খুব জরুরি। বিশেষ করে যাঁরা করোনা থেকে সেরে উঠেছেন, অথচ ডায়াবিটিস রয়েছে, তাঁরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। সে কারণে করোনা থেকে সেরে উঠলেও, ইএনটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে শারীরিক পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। কেন্দ্র যে এই নির্দেশিকা জারি করেছে, তা মেনে চলা উচিত। যে ওষুধের কথা বলেছে, সে গুলিই রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।’

মিউকরমাইকোসিস-এর চিকিৎসায় কী কী করণীয়? তা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকে সম্প্রতি রিপোর্ট দেয় ‘জয়েন্ট ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স’। তাদের পরামর্শ মেনেই এ বার রাজ্যগুলিকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কেন্দ্র। তাতে বলা হয়েছে, অ্যাম্ফোটেরিসিন বি ওষুধ রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োগ করতে হবে। অ্যাম্ফোটেরিসিন বি (লাইপোজোমাল) এবং অ্যাম্ফোটেরিসিন বি (ডিঅক্সিকোলেট) দেওয়া যেতে পারে।

রুপোর ব্রহ্মাস্ত্রে ঘায়েল হবে করোনা? পুনেয় নতুন দিশা বাঙালি গবেষকের

অ্যাম্ফোটেরিসিন বি ওষুধ পাওয়া না-গেলে অথবা কোনও রোগীর শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে, তখন পসাকোনাজল ইঞ্জেকশনও ব্যবহার করা কথা বলা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অ্যাম্ফোটেরিসিন বি (ডিঅক্সিকোলেট) ওষুধ ব্যবহার করলে যদি কোনও রোগীর কিডনির সমস্যা দেখা দেয় অথবা রোগীর মস্তিষ্কে মিউকরমাইকোসিস হলে, লাইপোজোমাল অ্যাম্ফোটেরিসিন প্রয়োগ করার পরামর্শও দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

কোনও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বেশ কিছু সতর্কতার কথাও মেনে চলতে বলা হয়েছে। তাতে জানানো হয়েছে, মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত রোগীকে স্যালাইন অথবা অক্সিজেন দিলে কোনও সমস্যা হওয়ার কারণ নেই। মাস্কও পরা যেতে পারে। আগেই কেন্দ্র মিউকোরমাইকোসিসকে মহামারী আইনে নথিভুক্ত করার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নির্দেশ দিয়েছিল।






Source link