পাখির চোখ ২০২৪, BJP বিরোধী শক্তিকে নেতৃত্ব দিতে পারেন মমতাই – west bengal assembly election update mamata banerjee could lead challenge against modi-shah in 2024

Share Now





এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: অকুতোভয়। অজেয়। তাঁর লড়াইকে শব্দে প্রকাশের জন্য আজ কোনও বিশেষণই যেন যুতসই নয়। কেন্দ্রীয় সরকার, তার গুচ্ছের এজেন্সি, মহাশক্তিমান কেন্দ্রের শাসকদল এবং তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়েবংশে বেড়ে ওঠা ঘুণপোকা। লড়াই চলেছে দাঁতে দাঁত চেপে। নির্বাচন কমিশনের তুঘলকি ফরমান মানতে হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতিতে ম্যারাথন আট দফার ভোটও সইতে হয়েছে। জখম হওয়া পা নিয়ে এ-বেলা কোচবিহার তো ও-বেলা শিলিগুড়ি করে বেড়িয়েছেন। সব সয়েছেন। মধ্য বৈশাখের রবিবাসরীয় দুপুর কড়ায়গণ্ডায় তার হিসেব বুঝে নিল। জবাব দিল জনতা। সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নের গ্যাসবেলুন ফাটিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিল, বাংলা তার মমতাকেই চায়।

করোনাত্তোর পরিস্থিতিতে এক অদ্ভুত ভোট দেখল বঙ্গ তথা ভারতবাসী। এক অঙ্গ রাজ্যের ভোটে জেতার জন্য কয়েক মাস যাবৎ প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সহ প্রায় গোটা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাই বাংলায় ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করেছেন। সকাল-সন্ধ্যা নিয়ম করে তৃণমূলকে গাল পে়ড়েছেন BJP ছোট-সেজ-মেজ-বড় নেতারা। কে হবেন BJP-র মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী, জল্পনার কলাগাছ নিত্যদিন গজিয়ে উঠেছে। আবার নটেগাছের মতো মুড়িয়েও গিয়েছে। দিন যত গড়িয়েছে, ততই অগোছাল লেগেছে BJP-কে। আর তা ঢাকতেই সম্ভবত তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও জোরাল করেছে BJP। রাষ্ট্রযন্ত্রকে কার্যত লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে তৃণমূল নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডল- ভোট যত এগিয়েছে ততই দীর্ঘ হয়েছে এজেন্সির ‘টার্গেট’ তালিকা। ভোটের মুখে দফায় দফায় নিয়ম করে সংবাদমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কল রেকর্ডিংও ফাঁস হয়েছে। যেন এক ঠাসবুনোট চিত্রনাট্যের নিখুঁত চিত্রায়ন। তবে এত লম্ফঝম্প খড়কুটোর মতো উড়ে গেল। BJP-র অশ্বমেধের ঘোড়ার খুর ফেঁসে গেল ঘাসফুলের বাংলায়। ২০০-র উপর আসন তৃণমূলকে উপহার দিয়ে বঙ্গবাসী BJP-কে স্পষ্ট বার্তা দিল, বহিরাগত নয়, নিজের মেয়ের উপরেই ভরসা অটুট।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিছুতেই অভিনন্দন জানাব না: বাবুল

গত বছরের শেষ থেকে বাঙালির নিত্যদিনের ওঠাবসার সঙ্গী হয়ে উঠেছিল কয়েকটি শব্দ। ‘দাদার অনুগামী’, ‘দমবন্ধ হয়ে আসছে’, ‘কাজের সুযোগ পাচ্ছি না’। কাজের সুযোগের সন্ধানে তৃণমূল ত্যাগ করে কেউ ধরলেন চার্টার্ড বিমান। আবার কেউ BJP নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে মিষ্টি হেসে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নিলেন। কয়েকদিনের মধ্যে রাজ্যজুড়ে BJP এমন এক বার্তা হাওয়ায় ভাসাল, যেন ভোটের আগেই ধসে যাবে মমতার সরকার। ট্রেনে-বাসে তখন একটাই আলোচনা। এবার কে দিদির হাত ছেড়ে দাদার হাত শক্ত করবেন? ঘৃতাহুতি দিয়েছিলেন রুপোলি পর্দার একঝাঁক তারকা। এক সময় তৃণমূলের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা অভিনেতাদেরও হঠাৎই বিবেকের দংশন শুরু হয়। BJP-তে গিয়ে টপাটপ টিকিটও পেয়ে যান তাঁরা। তবে ভোটের ফল বেরোতেই দেখা গেল, জার্সিবদলকারীদের ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন বঙ্গের ভোটাররা। মান্যতা পেয়েছে তৃণমূলের ‘গদ্দার’ তকমা।

বঙ্গ জয়ের ‘নেপথ্য কিংমেকার’, প্রার্থী না হয়েও জয় অভিষেকের

নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে পায়ে আঘাত লাগার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি BJP নেতারা। বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে যা মেলানো যায়নি। ভোট যত এগিয়েছে বাংলার আকাশ চার্টার্ড বিমান, হেলিকপ্টারে ছয়লাপ হয়েছে। বাংলার প্রান্তিক এলাকাতেও পৌঁছে গিয়েছেন BJP-র কেন্দ্রীয় নেতারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, BJP শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা নিয়ম করে রাজ্যে এসে তৃণমূল নেতানেত্রীদের গাল পেড়ে গিয়েছেন। মূল নিশানা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

জবাবে কিন্তু কখনও লক্ষণ রেখা পেরোননি মমতা। আগাগোড়াই থেকেছেন আত্মবিশ্বাসী। BJP-র মেরুকরণের রাজনীতির তুষের আগুন ছাইচাপা দেওয়ায় সচেষ্ট ছিলেন বরাবরই। যেখানেই গিয়েছেন পইপই করে মানুষকে বুঝিয়েছেন। বঙ্গ রাজনীতির বদলে যাওয়া হাওয়া সম্পর্কে জনতাকে সচেতন করেছেন। ফলও মিলেছে হাতেনাতে। মা-মাটি-মানুষের সরকারের একাধিক জনমুখী প্রকল্পের উপভোক্তা বঙ্গবাসী মমতাকে খালি হাতে ফেরায়নি। বরং দু’হাত ভরে ভোট দিয়েছে। জিতে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি জননেত্রী। বলেছেন, ‘বাংলাই পারে, বাংলার জয়।’

হারের পরও সোনার বাংলার স্বপ্ন চোখে, বাংলার রায়কে স্বাগত মোদী-শাহ-নাড্ডার

হুইলচেয়ারে সওয়ার মমতা বলেছিলেন, ‘এক পায়েই জয় করব বাংলা’। মিলিয়ে দিয়েছেন। আরও একটি কথাও অবশ্য বলেছিলেন জননেত্রী। ‘দুটো পায়ে তো আগামীদিনে দিল্লি জয়ও করতে হবে।’ লোকসভা ভোট ২০২৪ সালে। তার আগে একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। এদিন মমতার যে ক্যারিশমা দেশবাসী দেখল, এরপর BJP বিরোধী দলগুলির কাছে তিনিই অবিসংবাদী নেত্রী হিসেবে উঠে আসবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। হ্যাট্রিক সেরে মমতার ভিকট্রি সাইন নয়াদিল্লির ৭, লোক কল্যাণ মার্গের বাসিন্দাকে নিঃসন্দেহে চাপে ফেলে দিল। প্রথম কথাটি মিলিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে BJP শাসনে অতিষ্ট জনতা। সেক্ষেত্রে বলা যেতেই পারে, খেলা হবে ২০২৪-এ!






Source link